ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগেই প্রত্যাহার হয়েছেন বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা। ছাত্র-জনতার বিপ্লবে সশস্ত্র অবস্থান এবং গুম-খুনসহ একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের ফেনীতে পদায়নের আদেশ বাতিল করেছে সরকার। জনরোষ এবং নাগরিক প্রতিদিন-এর বিশেষ অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের। তাকে অনতিবিলম্বে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্টের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৭তম বিসিএস ক্যাডারের এই কর্মকর্তা বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ পাঁচ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন বিরোধী দল দমনে তিনি এতটাই সক্রিয় ছিলেন যে কাউকে ঘরে ঘুমাতে দিতেন না। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ হলো—চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক সাবেক ছাত্রদল নেতার দুই ভাইকে গুম এবং অর্থ আদায়ের নেপথ্যে প্রধান হোতা ছিলেন তিনি। গুম হওয়া সেই ভুক্তভোগীদের আজও কোনো হদিস মেলেনি, যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলন তুঙ্গে, তখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন মহবুব আলম। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি সরাসরি আন্দোলনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান নেন এবং নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যার নির্দেশ দেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করলেও ছাত্র-জনতা তা মেনে নেয়নি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক হত্যা মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুটিতে তিনি এজাহারনামীয় আসামি।
বিগত সরকারকে ‘খুশি’ করে এবং বিরোধী মতের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার এই বিতর্কিত অতীত এবং মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে ফেনীর মতো একটি স্পর্শকাতর জেলায় পদায়নের খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল।
মাহবুব আলম খানের বিতর্কিত ইতিহাস এবং গুম-খুনের সম্পৃক্ততা নিয়ে নাগরিক প্রতিদিনে বিশেষ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ধীরে ধীরে এটি সয়লাব হয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। এর প্রেক্ষাপটেই এক আদেশে তার ফেনীর পদায়ন আদেশ বাতিল করে তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে ফেনীর নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।