দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দুই ট্রাফিক কনস্টেবলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি রাজধানীর গুলিস্তানের। সরকারি ইউনিফর্ম পরা এবং যানবাহন চলাচলকালে সড়কের প্রায় মধ্যস্থলে ট্রাফিক কনস্টেবল দিলীপ চন্দ্র ও নুরুজ্জামানের এই মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট (নূর হোসেন চত্বর) এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দুই পুলিশ সদস্য সড়কের মাঝখানেই প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা সড়কের ওপরেই ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হন, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগ বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, দুই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মইনুল হক বলেন, ঘটনাটি ২১ মে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে গুলিস্তান জিপিও মোড় এলাকায় ঘটে। ওই সময় তারা দুইজনই ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ভিন্ন ভিন্ন পয়েন্টে ডিউটিতে ছিলেন।
তিনি বলেন, একটি যানবাহন সিগন্যাল অমান্য করে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। ঘটনাটি সামান্য মনে হলেও এটি সামান্য নয়। সরকারি ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় সড়কের মাঝে দায়িত্ব পালনরত দুই ট্রাফিক পুলিশের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডিউটিরত অবস্থায় সহকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ হতে পারে, তবে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু সড়কের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।
এ ঘটনায় ট্রাফিক কনস্টেবল দিলীপ চন্দ্র ও নুরুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। পুলিশ সূত্র জানায়, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন তারা বিধি অনুযায়ী রেশনের কিছু সুবিধা পেলেও পূর্ণ বেতন-ভাতা পাবেন না।