রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাসহ দেশজুড়ে শিশুদের ওপর চলমান বর্বরতায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছে শিশু অধিকার রক্ষায় কর্মরত সংস্থাগুলোর মোর্চা ‘চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ’। এ ধরনের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি একটি সভ্য সমাজের জন্য হতাশা ও চরম লজ্জাজনক এবং জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও জানিয়েছে তারা।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মোর্চাটি আরও উল্লেখ করেছে—
ভয়াবহ পরিস্থিতি
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত কমপক্ষে ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে কমপক্ষে ৪৬ শিশু এবং ধর্ষণ-পরবর্তী এবং ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কমপক্ষে ১৭ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ, ভোলার দৌলতখানায় ১২ বছরের শিশুর গণধর্ষণ এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ১২ বছরের শিশু ইমনের নির্মম মৃত্যু এই ভয়াবহতার আরও প্রমাণ।
কোয়ালিশনের দাবি ও আহ্বান
সমাজ কাঠামোতে শিশুর সুষ্ঠু বিকাশ ও শিক্ষার ঘাটতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব, যথাযথ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগে অকার্যকারিতা, এবং সামগ্রিক জবাবদিহিতার অভাবে আজ শিশুরা ঘরে-বাইরে নিরাপদ নয়। শুধু আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সচেতনতা ও প্রতিরোধ। এ লক্ষ্যে কোয়ালিশন দাবি জানাচ্ছে:
চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ অবিলম্বে এসব মামলাকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ সংঘটন থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকে। একই সাথে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ও তার সহযোগীদের অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে তারা। নিখুঁত ও জবাবদিহিতামূলক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে রাষ্ট্রপক্ষকে শতভাগ দৃশ্যমান ভূমিকা পালনের অনুরোধও জানানো হয়েছে। একইসাথে নিহত রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ভুক্তভোগী শিশু-পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।