আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। বাস টার্মিনালগুলোতে এখন ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তবে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার চিরাচরিত আনন্দের মাঝেই এবারও ‘বাড়তি ভাড়া’ আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে সাধারণ যাত্রীদের মনে।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে একের পর এক ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস। সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো টার্মিনাল এলাকা ছিল সরগরম। যাত্রী ডাকাডাকি, টিকিট বিক্রি আর বাস ছাড়ার তৎপরতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
টার্মিনালে আসা যাত্রীদের প্রধান অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে টিকিটের বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে পরিবহন মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জেলাভেদে জনপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। টিকিট সংকটের কারণে অনেকেই নিরুপায় হয়ে এই বাড়তি টাকা দিয়েই টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অবশ্য বরাবরের মতোই অস্বীকার করছেন কাউন্টার মাস্টার ও টিকিট বিক্রেতারা। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সরকার যে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে, তারা কেবল সেই চার্ট অনুযায়ীই টাকা আদায় করছেন। কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে না।
তবে সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার দোহাই দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে আদৌ অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কিনা—সেটি তদারকিতে মাঠপর্যায়ে বিআরটিএ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা কতটুকু? প্রতি ঈদেই এমন নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির খুব কম বলেই দাবি ভুক্তভোগীদের।
এদিকে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে পুলিশের কড়া অবস্থান দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টার্মিনাল এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছেন। মূলত যাত্রী হয়রানি বন্ধ, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ ও টিকিট কালোবাজারি রুখতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
উল্লেখ্য, ঈদ উপলক্ষে পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও যানজটমুক্ত করতে সরকারের নির্বাহী আদেশে ২৫ মেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চাকরিজীবীরা এবার টানা সাত দিনের এক দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন। আর এই দীর্ঘ ছুটির সুযোগেই মেয়াদের শুরুতেই রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের চাপ প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।