দেশের নিম্নআয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানে সরকার বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন ও ভাড়াভিত্তিক আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার টেবিলে উপস্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত ঢাকা মহানগরীর ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২-২০৩৫-এ নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে কড়াইল বস্তিসহ ৫৮টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গাজীপুর জেলার টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন ৯৮ একর জমিতে পর্যায়ক্রমে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গৃহায়ন মন্ত্রী জানান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার আর্থিক সহায়তায় রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকার প্রায় ৩৭টি বস্তিতে বসবাসরত স্বল্প আয়ের মানুষের উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিম্নআয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানে ‘পদ্মা আবাসিক এলাকা’র ৫৭৮ নম্বর প্লটে ১৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। একইভাবে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা শহরের হরিণটানা মৌজায় প্রায় আট একর জমিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) আওতাধীন মহানগরীর সল্টগোলা এলাকায় চউকের মালিকানাধীন প্রায় ৮৩ কাঠা জমিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য মাসিক ভাড়াভিত্তিক আবাসিক সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে স্ব-অর্থায়ন বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে একটি প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।