প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৫৭:২৩
দেশের আইসিইউগুলোতে চলছে নীরব বিপর্যয়। রোগীর শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক ঢুকছে, কিন্তু তাতে কোনো সাড়া নেই—এমন চিত্র ধরা পড়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর নতুন প্রতিবেদনে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা (এএমআর) বিপজ্জনক হারে বাড়ছে।
তাদের ‘ন্যাশনাল এএমআর সার্ভেইলেন্স রিপোর্ট ২০২৫’-এ উঠে এসেছে এমন চরম উদ্বেগের তথ্য। বলা হচ্ছে, দেশের আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের ৪১ শতাংশ কোনো অ্যান্টিবায়োটিকেই সাড়া দিচ্ছে না।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৯৬ হাজার ৪৭৭ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পাঁচটি আইসিইউতে ৭১ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রেই কোনো প্রতিক্রিয়াই পাওয়া যায়নি।
আরো ভয়াবহ—প্যান-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (পিডিআর) বা কোনো অ্যান্টিবায়োটিকেই অকার্যকর এমন জীবাণু পাওয়া গেছে দেশের মোট নমুনার ৭ শতাংশে, আর আইসিইউতে তা লাফিয়ে ওঠে ৪১ শতাংশে।
এ ছাড়া মাল্টি-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (এমডিআর) জীবাণু পাওয়া গেছে সব নমুনার ৪৬ শতাংশে, আর আইসিইউতে তা দাঁড়িয়েছে ৮৯ শতাংশে।
একই সঙ্গে হু-এর ওয়াচ–গ্রুপ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেড়েছে বিপজ্জনক মাত্রায়, অর্থাৎ আগের ৭৭ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৯ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে সেফট্রিয়াক্সোন এবং মেরোপেনেম।
প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে গিয়ে আইইডিসিআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রফেসর ড. জাকির হোসেন হাবিব সরাসরি সতর্ক করেছেন—অ্যান্টিবায়োটিকের নিয়মহীন ও অতিরিক্ত ব্যবহার এএমআরকে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এটি এখন দেশের জন্য বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।
দেশের অ্যান্টিবায়োটিক–বিরোধী এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে—হুঁশিয়ারি দিচ্ছে আইইডিসিআর—আগামী দিনের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় বিপদ।