প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৫০:৩৬
দোকান বন্ধ রেখে মানববন্ধন করছেন বিভিন্ন শপিং মলের মোবাইল ব্যবসায়ী ও দোকানের কর্মচারীরা। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার-পান্থপথ এলাকায় এই ঘটনা দেখা যায়।
তারা বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে লাখো ব্যবসায়ী ও পরিবার। তবে নতুন এই নিয়মের ফলে একটি গোষ্ঠী লাভবান হবে। বাড়তি করের কারণে মোবাইলের দাম বেড়ে যাবে।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বরের পর বিক্রি হওয়া বা নেটওয়ার্কে চালু হওয়া সব আনঅফিসিয়াল মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে এনইআইআর চালুর আগের দিন পর্যন্ত নেটওয়ার্কে যেসব ফোন রয়েছে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে; কোনো মোবাইল ফোন বন্ধ করা হবে না।
বর্তমানে ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বৈধ কি না জানা যাবে যেভাবে
এসএমএসের মাধ্যমে:
ধাপ-১: প্রথমে মোবাইলের কিপ্যাডে *#06# ডায়াল করুন। স্ক্রিনে দেখা যাবে ফোনের আইএমইআই নম্বর।
ধাপ-২: মোবাইল ফোন থেকে *১৬১৬১# নম্বরে ডায়াল করুন।
ধাপ-৩: অটোমেটিক বক্স এলে হ্যান্ডসেট-এর ১৫ ডিজিটের আইএমইআই (IMEI) নম্বরটি লিখে প্রেরণ করুন।
ধাপ-৪: ফিরতি মেসেজের মাধ্যমে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের/হ্যান্ডসেটের হালনাগাদ অবস্থা জানানো হবে।
অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে:
বিটিআরসির ওয়েবসাইটে ‘Verify IMEI’ অপশনে গিয়ে আইএমইআই (IMEI) নম্বরটি লিখুন। সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল দেখা যাবে–আপনার ফোনটি ‘Valid’, ‘Invalid’ নাকি ‘Clone’।
বিদেশ থেকে কেনা বা উপহার পাওয়া ফোন যেভাবে নিবন্ধন করতে হবে:
বিদেশ থেকে ব্যক্তিপর্যায়ে কেনা বা উপহার পাওয়া একটি মুঠোফোন প্রাথমিকভাবে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে সচল হবে। তবে পরবর্তীতে এই ফোনগুলোকে অবশ্যই নিবন্ধন করে নিতে হবে।
প্রাথমিকভাবে সচল হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য দাখিলের জন্য গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে নির্দেশনা দেয়া হবে। এরপর গ্রাহকের দাখিল করা সব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর শুধু বৈধ ফোনগুলোই নেটওয়ার্কে সচল থাকবে।
বিদেশ থেকে ব্যক্তিগতভাবে আনা ফোনের অনলাইন নিবন্ধন করবেন যেভাবে
ধাপ-১: গ্রাহককে প্রথমেই এনইআইআর পোর্টালে (neir.btrc.gov.bd) যেতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে।
ধাপ-২: পোর্টালের স্পেশাল রেজিস্ট্রেশন (Special Registration) সেকশনে গিয়ে মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর দিতে হবে।
ধাপ-৩: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের ছবি বা স্ক্যান কপি যেমন- পাসপোর্টের ভিসা/ইমিগ্রেশন, ফোনটি ক্রয়ের রশিদ ইত্যাদি আপলোড করে সাবমিট বাটনে চাপ দিতে (প্রেস করতে) হবে।
ধাপ-৪: হ্যান্ডসেটটি বৈধ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। তবে বৈধ না হলে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেয়া হবে এবং ফোনটিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, ব্যক্তিপর্যায়ে বিদেশ থেকে ফোন নিয়ে আসার ক্ষেত্রে, বাংলাদেশে বিদ্যমান ব্যাগেজ রুলস (আমদানি বিধিমালা) অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি বিদেশ থেকে দেশের নেটওয়ার্কে আগে ব্যবহৃত নিজের ব্যক্তিগত একটি ফোন বাদে সর্বোচ্চ আর একটি মুঠোফোন বিনা শুল্কে দেশে আনতে পারবেন। আর শুল্ক দেয়া সাপেক্ষে আরও একটি অতিরিক্ত ফোন নিয়ে আসতে পারবেন।
ফোন বিক্রি করতে চাইলে যা করতে হবে:
নিবন্ধিত মুঠোফোন গ্রাহক যদি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে চাস সেক্ষেত্রে আগে হ্যান্ডসেটটিকে ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করতে হবে। ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে নিবন্ধিত একটি সিম ফোনে থাকতে হবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের শেষ চার ডিজিট উল্লেখ করতে হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে। ডি-রেজিস্ট্রেশন করা যাবে চারটি মাধ্যমে।
নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়
১) সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)
২) মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমএনও) পোর্টাল
৩) মোবাইল অ্যাপস
৪) ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)
তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।