প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ৪:০১:৫৪
ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করেছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। তাদের দাবি, ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা। এ সময় হাসপাতালে আগত অসংখ্য রোগীকে দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা চলে এই কর্মবিরতি। তবে জরুরি বিভাগে স্বল্প পরিসরে সেবাদান চালু ছিল।
সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান কক্ষে স্বল্প পরিসরে কাজ চলছে। বহির্বিভাগের রেডিওলজি বিভাগ বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়া ওষুধ সরবরাহ ভবনের গেট (মেডিসিন স্টোর)। সেখানেই ভুক্তভোগী রোগীদের সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়।
নাসিমা আক্তার (৪৫) নামে ওষুধের জন্য অপেক্ষারত এক রোগী জানান, তিনি সকাল ৯টায় মেডিসিন চিকিৎসককে দেখিয়েছেন। চিকিৎসক কিছু ওষুধ লিখে দিয়েছেন। তবে দেড় ঘণ্টা ধরে মেডিসিন স্টোরের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো ওষুধ নিতে পারেননি।
বহির্বিভাগের রেডিওলজি বিভাগের বারান্দায় ফ্লোরে শুয়ে থাকা ফোরকান উদ্দিন নামে এক রোগীর ছেলে মো. আসলাম জানান, তার বাবা ভর্তি আছেন। চিকিৎসকেরা একটি এক্স-রে করাতে বলায় সকাল ৭টার দিকে রেডিওলোজি বিভাগে নিয়ে এসেছেন। তবে সকাল থেকে এখানে কাউকে দেখতে পাননি। এক্স-রে রুমটি কখন খুলবে সেটিও তাদের অজানা।
জামাল উদ্দিন নামে এক রোগী বলেন, ‘আমি সকাল ৮টার সময় হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখিয়েছি। তবে এক্স-রে করতে এসে দেখি, সব বন্ধ। পরে জানতে পারলাম, যারা দায়িত্বে আছে তারা আন্দোলন করছে। কখন পরীক্ষা করব, কখন ডাক্তার দেখাব জানি না।’
হাসপাতালজুড়ে এমন কয়েকশ রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়েন।
কর্মবিরতি পালন শেষে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা বহির্বিভাগে সমবেত হন। এ সময় বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খাজা মাঈন উদ্দিন মঞ্জু বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের ফাইলটি জনপ্রশসনে মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে বরংবার উপস্থাপিত হয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন, সংগ্রাম, দাপ্তরিক চিঠি চালাচালি, জনপ্রশাসন বিধি শাখার সমস্ত চাহিদা পূরণ করা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নানাবিধ উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয় সময়ক্ষেপণ ও জটিলতা তৈরি করছে।
তিনি বলেন, অথচ এর আগে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা নার্স ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদেরা ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছে। আমাদের দাবি না মানা হলে আগামী ৩ ডিসেম্বর অর্ধ-দিবস কর্মবিরতি ও ৪ ডিসেম্বর পূর্ণ-কর্মদিবস কর্মসূচি পালন করা হবে।
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সিকদার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, করোনা-ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে জীবন বাজি রেখে কাজ করলেও ন্যায্য গ্রেড থেকে তাঁরা বঞ্চিত। অন্যান্য ডিপ্লোমাধারী কর্মকর্তাদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করা হলেও টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়ে গেছে। দ্রুত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন না হলে সামনে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এসএম আব্দুল বাকি শিশির বলেন, ‘দাবি মানা না হলে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ভয়ভীতি দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা আন্দোলন করতে জানি। আমরা ফ্যাসিস্ট আমলেও আন্দোলন করেছি। আমরা বারবার স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু আমাদের কথা রাখেনি। টেকনোলোজিস্ট ছাড়া কোনো চিকিৎসা ঠিকঠাক হয়নি। যতদিন এই স্বাস্থ্যসেবা থাকবে ততদিন এই টেকনোলজিস্টদের ভূমিকা থাকবে।’