কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকার নাফ নদ থেকে আবারও ছয়জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ভোরে ঝিমংখালি নাফ নদ সংলগ্ন এলাকায় দুটি মাছ ধরার নৌকা থামিয়ে ওই ছয়জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে দুজন স্থানীয় বাংলাদেশি এবং চারজন রোহিঙ্গা।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঝিমংখালি পয়েন্টে মাছ ধরার সময় দুই নৌকার ছয়জনকে তুলে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।’
বিজিবির তথ্য বলছে, এর আগে গত আট মাসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নাফ নদসহ সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ৩০০ জন জেলেকে অপহরণ করে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে চলতি বছরের মার্চ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত অপহৃত হন ২০০ জন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সহায়তায় তাদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে কয়েক দফায় ফেরত আনা হয়। এখনো ১০০ জন জেলে আরাকান আর্মির হাতে রয়েছে।
স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, হঠাৎ কয়েকজন অস্ত্রধারী নৌকায় উঠে সবাইকে নামিয়ে নিয়ে যায়। পুরো ঘটনাই ঘটে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে। এতে সীমান্তপথে মাছ ধরতে যাওয়া স্থানীয় জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে মায়ানমারের আরাকান গ্লোবাল নেটওয়ার্ক নিউজ দাবি করেছে, নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ও অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে আরাকান কোস্টাল সিকিউরিটি ফোর্স ওইদিনই পৃথক অভিযানে আরো ৬ বাংলাদেশিকে আটক করেছে। তারা জানান, সামুদ্রিক ও নিরাপত্তা আইনে আটক জেলেদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরাকান জলদস্যুদের এমন অত্যাচারের ইতিহাস নতুন নয়। বেশ কয়েকদিন থেকেই কক্সবাজার, সেন্টমার্টিনের নিকটতম সমুদ্র উপকূল থেকে বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে আরাকান আর্মি। পঞ্চদশ শতাব্দীতে আরাকান থেকে আসা মগ জলদস্যুদের অত্যাচারের ইতিহাস থেকেই মগের মুল্লুক বাগধারাটি এসেছিল। সেই আরাকান জলদস্যুদের পুরোনো অত্যাচার আবারও এই দেশে শুরু হয়েছে।