ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফের তলব করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়।
কূটনৈতিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র বলেছে, নয়াদিল্লি, কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে থাকা বাংলাদেশ মিশন নিয়ে উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রণয় ভার্মাকে তলব করা হয়।
ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম তলব করেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে যান। আসা-যাওয়া মিলিয়ে পাঁচ মিনেটের কম সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে যান প্রণয় ভার্মা।
কূটনৈতিক সূত্র আরও জানায়, প্রণয় ভার্মাকে ভারতের বিভিন্ন স্থানে থাকা বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১০ দিনে প্রণয় ভার্মাকে দ্বিতীয়বার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হলো। এছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন ঘটনায় এ নিয়ে অন্তত ছয়বার তলব করা হলো প্রতিবেশী দেশটির এ রাষ্ট্রদূতকে।
সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন ও ভিসা সেবাকেন্দ্রগুলোকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত কয়েক দিনে নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশি মিশনের সামনে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীরা সরাসরি ভিসা সেবাকেন্দ্রের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন সাময়িকভাবে কনস্যুলার ও ভিসা সংক্রান্ত সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। হাইকমিশনের ফটকে টানানো এক নোটিশে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন এবং শিলিগুড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারেও ভিসা সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, ভিসা সেন্টারে হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন, উপহাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশন এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা সেন্টারগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে দিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে একদল বিক্ষোভকারীর উপস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আসে। বিষয়টি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনার বর্ণনাকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সে বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা হয়।
চলতি মাসের শুরুতে আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনাও ঘটে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোর নিরাপত্তা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে, এমন অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে ভারতের অবস্থানের প্রতি কড়া আপত্তি জানায়।