সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়ার কথা রাষ্ট্রপতির। অথচ এটি করা হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। দেশে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় রাষ্ট্রপতির হাতে কিছু ক্ষমতা দেওয়া দরকার। এ জন্য সংবিধান সংশোধন জরুরি বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামে বিভাগীয় মতবিনিময় সভা ও ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে আলাদা দুই সম্মেলনের আয়োজন করে বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
গণভোট–সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ বলেন, ‘গণভোটের প্রচারণায় আইনি বা সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই। আমরা বিচারপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে আদেশের অধীনে এই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া হচ্ছে, সেখানে কোথাও বলা হয়নি যে আপনি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলতে পারবেন না।’
আলী রীয়াজ জানান, এবার গণভোটে বলা হচ্ছে, এই যে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার দলিল (জুলাই সনদ), এটি আপনি গ্রহণ করছেন কি না। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে, আপনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলে নতুন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে প্রস্তুত। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশের ভবিষ্যতের জন্য নির্ধারিত সংস্কার বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হবে।
সংবিধান সংস্কার বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশে গত ১৬ বছরে একজন ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা অভাবনীয়ভাবে পুঞ্জীভূত হয়েছে। নিজের ইচ্ছেমতো তিনি দেশ চালিয়েছেন। কিন্তু তাকে সাহায্য করেছে, তাকে বৈধতা দিয়েছে সংবিধান। প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি ইচ্ছেমতো সংবিধানও বদল করেছেন। সে জন্যই আমরা বলছি সংবিধানে পরিবর্তন, সংশোধন ও সংস্কার প্রয়োজন।’
জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধানের বিশেষ বিশেষ জায়গাগুলো পরিবর্তন, সংশোধন ও সংস্কারের জন্য এই দলিল তৈরি হয়েছে। দুর্নীতি, বিচার, সরকারি কমিশন, নির্বাচনী ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে একমত হয়েছে। উচ্চকক্ষ, সংবিধান সংশোধন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাচন কমিশন সবই এই সনদের মধ্যে উল্লেখ আছে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য একটা ভবিষ্যৎ তৈরি করার দায় স্মরণ করানোর জন্য আমরা এখানে এসেছি। এটাই হলো হ্যাঁ এবং না ভোটের বিষয়। এটি নির্ধারণ করবে যে আপনি একটা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ চান কি না। যে বাংলাদেশে ইনসাফ হবে, যার ভিত্তি মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতিতে এবং ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের মধ্যে রয়েছে।’
বিকেলে সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক আহসান হাবিব পলাশ ও নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান তিনটি লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ। ৫৪ বছরে এ লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এ কারণে ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান অপরিহার্য। পতিত ফ্যাসিস্টরা তাদের পাচার করা টাকাগুলো ব্যবহার করছে গণভোট নিয়ে অপপ্রচার ছড়াতে।
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পুলিশ প্রশাসন প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক আহসান হাবিব পলাশ ও নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারা।