আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গণনায় দেরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ঢাকার ফরেন সার্ভস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার (২১ জানুয়ারি) তিনি এ কথা বলেন।
ভোট গণনায় দেরির কারণ হিসেবে শফিকুল আলম জানান, এবার সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি রেফারেন্ডাম বা গণভোট এবং পোস্টাল ব্যালট রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘এই বছর অনেক কিছু নতুন নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাচ্ছি, খুব ভালোভাবে ভোটগণনা হোক, সেক্ষেত্রে কিছু বিলম্ব হতে পারে ভোট গণনায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে যেন গুজব না ছড়ায় সেজন্য আপনারা আগেভাগেই সাধারণ মানুষকে জানিয়ে রাখবেন।’
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ-ও বলেন, ‘নির্বাচন কেন্দ্রে কোনো ইন্সিডেন্ট হলো। ওটাকে ঘিরে অপতথ্য ছড়ানো হতে পারে। এগুলোকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, এটা নিয়ে আজ কথা হয়েছে।’
এ ছাড়া নির্বাচনের সময় তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতে উন্নত ইন্টারনেট সেবা দিতে চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রেস সচিব। তিনি আরও বলেন, বডি অন ক্যামেরার ছবি পেয়ে কুইক রেপন্স করা হবে। ২৫ হাজার ৫০০ বডি অন ক্যাম থাকবে পুলিশের কাছে। এর ফুটেজ সুরক্ষা অ্যাপে যুক্ত হবে, যা দেখে কুইক রেসপন্স নিশ্চিত করা হবে।
ভোটের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারেও তিনি তাগিদ দিয়েছেন বলে জানান প্রেস সচিব। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে। এতে নির্বাচনের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, ভোটের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে সমন্বয় করে কাজ করবেন। এ সময় এক লাখ সেনা সদস্য, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনীর সাড়ে তিন হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অন্য বাহিনীর সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসও থাকবে। আরও থাকবে ৫০০ ড্রোন। এ সময় পাবনা ১ ও ২ আসন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও, দুই আসনসহ ৩০০ আসনেই নির্বাচন হবে।
প্রেস সচিব বলেন, এবার নির্বাচনে দায়িত্বে থাকবেন ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও এক হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। যেখানে জেলা প্রশাসক জেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি। নির্বাচনী সুরক্ষা নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিভাবে কাজ করবেন।