আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট পর্যবেক্ষণে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে কমনওয়েলথ। ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দলটির নেতৃত্বে থাকবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট আকুফো-আদো।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ ঘোষণা দেন কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে। কমনওয়েলথের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এ কথা জানানো হয়েছে।
কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের দল পাঠানোর মাধ্যমে আমরা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মৌলিক গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের উপস্থিতি কেবল পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব থেকেই পরিচালিত নয়, বরং এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতির অংশ।’
পর্যবেক্ষক দলের সদস্যরা হলেন- অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার ক্যারিবিয়ান উইমেন ইন লিডারশিপের প্রেসিডেন্ট লেব্রেখটা নানা ওয়ে হেসে-বেইন, কানাডার যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ নীল ফিলিপ ফোর্ড, ফিজির প্যাসিফিক ইয়ুব কাউন্সিলের সমন্বয়ক মিলিয়ানা ইগা রামাতানিভাই, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর দাতুক(ড.) রাস আদিবা মোহদ রাদজি, মালদ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী এইচ.ই. জোফ্রি সালিম ওয়াহিদ, মরিশাসের নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মাদ ইরফান আবদুল রহমান, সিয়েরালিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রফেসর ডেভিড জন ফ্রান্সিস, সিঙ্গাপুরের মানবাধিকার আইনজীবী সঙ্গীথা যোগেন্দ্রন, দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচন কমিশনের সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা প্রফেসর ম্যান্ডলা মচুনু, শ্রীলংকার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের পাবলিক ও আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. দিনেশা সমরারত্নে, উগান্ডার প্রফেসর উইনিফ্রেড মেরি তারিনিয়েবা কিরিয়ারউইরে, যুক্তরাজ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ রোজমেরি আজাই এবং জাম্বিয়ার সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ক্রিটিকাস প্যাট্রিক এনশিনদানু।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রতিনিধি দলের প্রধান আকুফো-আদোর সঙ্গে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা যোগ দেবেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব শেষে পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ সম্বলিত একটি প্রতিবেদন কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসমূহ সব কমনওয়েলথ সরকার এবং সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।