জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সামনে নতুন কোনো সংকট বা চ্যালেঞ্জ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পটুয়াখালীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘ভোটের হার দিয়ে নির্বাচনকে মূল্যায়ন করা হয় না। নির্বাচন কমিশন চায়, প্রতিটি ভোটার যেন কোনো বাধা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। সে লক্ষ্যেই কমিশন প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে।’
নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব জনগণের আস্থা অর্জন করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই কমিশন কাজ করছে এবং এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
পটুয়াখালীর সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার জানান, দুইটি পৃথক টিমের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে এসব প্রস্তুতি দেখে সন্তুষ্ট।
আগের অনেক নির্বাচনের তুলনায় এবারের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে ভালো। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও তা খুবই সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা সহিংসতা সৃষ্টি হোক, নির্বাচন কমিশন তা কোনোভাবেই চায় না বলে জানান ইসি সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘রঙিন বিলবোর্ড ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ব্যানার, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ রয়েছে। ডিজিটাল বিলবোর্ড থাকলে সেগুলো সাদা-কালো করার প্রয়োজন নেই।’
গণভোট ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন নতুন কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। কেবল বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিষয়গুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো প্রার্থী বা পক্ষের হয়ে অবস্থান নিতে পারবেন না। তবে তারা নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারবেন।