স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তিন হাজার ৫৮৫ জন সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদর দপ্তরে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।
এ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ৪০ জন কর্মকর্তা ও নাবিককে তাদের সেবার জন্য পদক প্রদান করা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা ও নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্তৃক ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মোট ১০০টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে দেশের উপকূলীয় এলাকা ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ, অস্ত্র উদ্ধার ও চোরাচালান রোধ, মাদক ও মানব পাচার প্রতিরোধ, ডাকাতি ও জলদস্যুতা দমনসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। নিয়মিত টহলের মাধ্যমে সমুদ্র ও নদীপথকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান ও নাবিকদের উদ্ধার কার্যক্রমও তারা সফলভাবে পরিচালনা করছেন।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জনগণকে সচেতন করা এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম এবং জনসেবামূলক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে শীতবস্ত্র বিতরণ, দুস্থজেলেদের মাঝে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসন কার্যক্রমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তবর্তী নদী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে মানবপাচার, অস্ত্র চোরাচালান ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড শুধু দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখছে না, একই সঙ্গে অত্র সমুদ্র অঞ্চলেরনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই অবদানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশসমূহ কোস্ট গার্ডের এই অবদানের প্রশংসা করেছে এবং একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত সময়োপযোগী সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সক্রিয় অংশগ্রহণসহ দেশব্যাপী নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কোস্ট গার্ড ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের এ উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের সমুদ্র ও বিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড একটি স্বতন্ত্র আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আজ এই বাহিনী উপকূলীয় জনগোষ্ঠীসহ সমগ্রদেশের মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।’
কোস্ট গার্ডকে উদ্দেশ্য করে উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে আপনাদেরকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তি, দল, কিংবা রাজনৈতিক কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নে কেউ জড়িত হবেন না।’