ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হতেই হবে, পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে এরপর যে রাজনৈতিক দল সরকারে আসবে তাদের হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। নয়তো তাদের জীবনকে জাহান্নাম বানিয়ে দেব।’ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পুলিশের হামলা নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমরা আমাদের এক ভাইকে (হাদি) হারিয়েছি। এরপর আমাদের আর কোনো ভাইকে হারালেও নির্বাচন ১২ তারিখে হতে হবে। নির্বাচন পেছানো যাবে না। তবে নির্বাচনের পরে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি হাদি হত্যার এই ব্যাপারে সুষ্ঠু কোনো পদক্ষেপ না নেয়। তাদের জীবনকে জাহান্নাম বানাই দেব।’
এর আগে, চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নিয়ে বার্তা দেয় ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার রাত ৮টা ৯ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে এক পোস্টে বলা হয়, ‘নির্বাচন ১২ তারিখেই হবে। নির্বাচন হতেই হবে। কোনোভাবেই নির্বাচন বানচাল করতে দেওয়া হবে না।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা শুধু হাদি হত্যার বিচার চান, এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন ভন্ডুলের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।
এদিকে জুলাইযোদ্ধা ও তরুণ রাজনীতিবিদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় উত্তপ্ত হয়ে উঠে। রণক্ষেত্র হয়ে উঠে পুরো এলাকা। আন্দোলন চলাকালীন বড় একটি অংশ কাটাবন মোড়ের দিকে অবস্থান নিয়েছে। বাকি দুটো অংশ মৎসভবন-ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিউটের সামনে ও পুলিশ টেনিস ফেডারেশনের সামনে অবস্থান নেয়। ঘটনাস্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিকে পুলিশের বেধড়ক মারধর করার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শাহবাগ মোড়ে অবস্থানের একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে মুহূর্মুহু সাউন্ড গ্রেনেড ছোঁড়ে। এ সময় আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা যমুনা এলাকায় জড়ো হয়ে হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ও পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।