ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা ‘আপাতত শেষ’ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবারের (৬ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)।
এদিনের আলোচনার কোনো বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং ইরানি আলোচক দল তাদের বাসভবনে ফিরে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে ‘ভালো শুরু’ বলে অভিহিত করেছেন। যদিও অনেক বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং সেসব নিয়ে সামনের দিনগুলোয় আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার জানিয়েছিলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, এই অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন ও ‘নিজ জনগণের সঙ্গে আচরণ’ বিষয়গুলো—নিয়ে আলোচনা এগোতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন। আর ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করবেন না। একই সঙ্গে বলেছেন, তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারের স্বীকৃতি চায়।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও তার সঙ্গী প্রতিনিধিদল ওমানের কূটনীতিকদের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ হুইটেকার ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেন। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আরাঘচি বলেন, আজ একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এসব বৈঠকে ইরান ও বিপরীত পক্ষের মতামত শোনা হয়েছে। আজকের আলোচনা ‘দীর্ঘ ও নিবিড়’ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে দেশে ফিরে এ বিষয়ে পরামর্শ করার ওপর। আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সবাই একমত ছিল উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যৎ আলোচনার সময়, স্থান ও পদ্ধতি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরবর্তী পরামর্শের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানান।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বুসাইদি মাস্কাটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট পর এক্স নেটওয়ার্কে এক পোস্টে বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মানসিকতা স্পষ্ট করা এবং সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার বিষয়গুলো কার্যকর ছিল।
আলোচনার আগে দুই পক্ষই নিজেদের প্রতিনিধিকে আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে বা বিপরীত পক্ষকে চাপে ফেলতে একরকম ‘শক্তিমত্তা প্রদর্শনের’ অবস্থান নেয়। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি কমিশনের সদস্য ইসমাইল কাওসারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সম্পর্কে বলেছিলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে এই আলোচনার কোনো ফল হবে না।’ তিনি আইএলএনএ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, মার্কিনরা ‘আমাদের সঙ্গে খেলতে চায় এবং আমরা তাদের সঙ্গে খেলব। কিন্তু আমরা আমাদের নিজস্ব নীতির ভিত্তিতেই এটা করব।’
আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস এক নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সে দেশের নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানায়। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা, বিদেশি ফ্লাইট বারবার বাতিল হওয়া ও রাস্তা বন্ধ থাকার কথা উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই অংশ ইরান থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তারা নাগরিকদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে স্থলপথে আর্মেনিয়া ও তুরস্কে যাওয়ার সুপারিশ করে।
এই বিজ্ঞপ্তিতে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকদেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ইরান ছাড়ার সময় যেন তারা ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। কারণ ইরান দ্বৈত নাগরিকত্বকে বৈধ হিসেবে স্বীকার করে না। এই সতর্কবার্তা, যার তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের মধ্যে আলোচনা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জারি করা হয়।