এ বছরের ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত চলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার। এসময় দিনরাত নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় চষে বেড়ান বিভিন্ন দলের প্রার্থী থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোট গ্রহণ। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট হবে।
এদিন জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হবে। শেরপুর–৩ আসনের এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই আসনে ভোট পরে হবে।
এবার ইসিতে নিবন্ধিত ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী আছেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ৫০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। মোট নারী প্রার্থী আছেন ৮১ জন।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন আর হিজড়া পরিচয়ে ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিদায় নেবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে আজ রাতের মধ্যে ব্যালট পেপারসহ ভোটের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, দুই রঙের ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন ভোটাররা। একটি সাদা, যা সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। অন্যটি গোলাপি, যা গণভোটের।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ভোট গণনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. সানাউল্লাহ বলেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রে গণনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একসঙ্গে একই সময়ে গণনা করা হবে। দুটি ভোটের ফলাফলও একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। ভোটকেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আশা করা হচ্ছে, বেশির ভাগ কেন্দ্রের ফলাফল ভোটের দিন মাঝরাতের মধ্যে চলে আসবে। পরদিন সকালে সব ভোটকেন্দ্রের ফলাফল একীভূত করে ফরম ১৮-তে লিপিবদ্ধ করে প্রার্থী বা এজেন্টের উপস্থিতিতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা সই করবেন। এটার ভিত্তিতে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশে এত ফোর্স, এত ক্যাপাসিটি ডেপ্লয় কখনোই করা হয়নি। তাই নির্বাচনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। এরপরও যদি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে, সেটার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’