‘৫০ লাখ নয়, পাঁচ কোটি টাকা বহন করলেও কোনো অসুবিধা নেই’—এমন বক্তব্য দেননি বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। নির্বাচন ভবনে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।
আখতার আহমেদ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটা ঘটনায় আমাকে কোট করে বলা হয়েছে, কোট করা হয়েছে যে (টাকা বহনের) একটা ঊর্ধ্বসীমা আমি নাকি বলেছি যে ৫ কোটি টাকা নিয়ে গেলে কোনো অসুবিধা নেই। এটা বলার এখতিয়ার, অধিকার, ক্ষমতা আমার নেই। আমি এটা বলিনি। আপনাদের কাছে এখন সর্বসমক্ষে বলছি এটা আমাকে মিসকোট করা হয়েছে। দয়া করে এরকম মিসকোট করবেন না।’
এ সময় আখতার আহমেদ আরও দাবি করেন, কত টাকা নেওয়া যাবে, কত টাকা নিতে পারবেন বা নেওয়া যাবে না এ বিষয়ে বলার এখতিয়ার তার নেই। তিনি বলেন, ‘এটা বলার এখতিয়ার, অধিকার বা ক্ষমতা আমার নেই এবং আমি এটা বলিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো একটা অর্থের বিষয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি বলেছি, যারা এটা ইন্টারসেপ্ট করেছে তারা এ ব্যাপারে অর্থের সোর্স, অ্যামাউন্ট ও পারপাস অব দি ফান্ড—এটার ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।’
এক্ষেত্রে আইনি ব্যাখার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘যারা এটা ইন্টারসেপ্ট করেছেন তারা দেবেন আইনি ব্যাখ্যা, আমার কাছে তো না।’
ইসি সচিব বলেন, ‘একটা ভালো নির্বাচনের দিকে আমরা আগাচ্ছি। আমরা সবাই সচেষ্ট থাকি যেন আমরা সুন্দরভাবে নির্বাচনটা করতে পারি। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ইনশাল্লাহ ভোট দিতে সবাই যাব।’
এর আগে বুধবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা জব্দ করে পুলিশ। এরপর বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক আলাপে তিনি বলেছিলেন, ভোটের সময় টাকা বহনের নির্দিষ্ট সীমা নেই। সোর্স ও ব্যবহারের বৈধ খাত দেখাতে পারলে ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে পাঁচ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই। তবে ওই টাকা যদি ভোটে কাউকে প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়টি দেখবে ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’। টাকা যদি অবৈধ হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।