অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশত্যাগের কারণ জানিয়েছেন। আর্থিক ক্ষতি ও পারিবারিক কারণে এবং দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে বিদেশে গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রিটার্ন টিকিট কেটে দেশত্যাগ করেছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। তার দেশত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রোববার মধ্যরাতে (১৫ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির ৮, ৯, ১০ তারিখে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে। এরপর নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। প্রযুক্তি নির্ভর নির্বাচনী আয়োজনে আমার কিছু কন্ট্রিবিউশন ছিল। কলিগদের থেকেও ঠিকঠাক বিদায় নিয়েছি। ১০ ফেব্রুয়ারি অফিসিয়ালি শেষ কর্ম দিবস ছিল। সেদিন কর্মকর্তা কর্মচারী সবার সঙ্গে একসাথে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছি। গান গেয়ে বিদায় দিয়েছেন আমার সহকর্মীরা, ওয়ালে পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এবং সৎ ব্যক্তিকে দুটো অসম্মানজনক কটু কথা শোনানোর আগে, তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেবেন, চাওয়াটা খুব বেশি বড় না। বিদায়ের সময় এক সহকর্মী জিজ্ঞেস করেছিল পরে কি করবেন? বলেছি একটা চাকরি খুঁজতে হবে দ্রুত। দেশের জন্য কাজ করতে এসে ফাইনান্সিয়ালি অনেক লোকসান হয়েছে। সেভিংস যা ছিল সব শেষ হয়েছে।’
দ্রুত দেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং আছে প্লাস স্ত্রীর মেডিকেল ইমার্জেন্সি আছে। ছুটি চেয়ে যথাযথভাবেই পরিবারের কাছে যাচ্ছি। আরও একটা তথ্য দেই, রিটার্ন টিকিট কেটে এসেছি। একটা দীর্ঘ সময় সন্তান ও পরিবারকে সময় দিতে পারিনি, পরিবারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্লাস আজকে ভ্যালেন্টাইন ডে।’
পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং একটি দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। পুরোনো আইন ও নীতিমালা পরিবর্তনে তিনি ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারেন যে তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। মোবাইল ব্যবসায়ী ও টেলিকম সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ‘দ্রুত একটা চাকরি খুজবো। আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব। আমার স্ত্রী সন্তানকে ডিপ্রাইভ করে, নিরাপদ জীবন ফেলে দেশে এসেছি, কিছু মানুষ আমাকে যে যেভাবে পেরেছে অপমান, অপদস্ত করতে কাজ করেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই দেশের উল্লেখযোগ্য মানুষ সৎ লোক এবং নলেজ ড্রিভেন লিডারশিপ ডিজার্ভ করে না। এই কষ্ট আমাকে তীব্রভাবে আঘাত করেছে।’
এর আগে শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসেরর ফ্লাইট ইকে ৫৮৩-এ নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্টে দেশ ছাড়লেও তিনি দুবাই হয়ে জার্মানি গেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিমানবন্দর গোয়েন্দা শাখার সূত্র জানায়, দেশত্যাগে বা বিদেশ গমনে ফয়েজ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বিমানবন্দরে তার বহির্গমনে বাধা দেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের প্রযুক্তি খাত নিয়ে কাজ করার জন্য নেদারল্যান্ডসের নাগরিক ফয়েজ তৈয়্যবকে অন্তর্বর্তী সরকার দেশে নিয়ে আসে। এর আগে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে পলিসি অ্যাডভাইজার (সংস্কার ও সমন্বয়) পদে ছিলেন।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠনের জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন নাহিদ ইসলাম। এরপর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় খালি হলে ওই বছরের ৫ মার্চ প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় এই মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান ফয়েজ আহমদ।