২০২৬ সালের এপ্রিল মাস। ক্যালেন্ডারের পাতায় বৈশাখ এলেও প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বসে আছে। যে বৈশাখ আসার কথা ছিল ধুলো উড়িয়ে কালবৈশাখীর ঝাপটায় তপ্ত ভূমিকে শীতল করতে, সেই বৈশাখ এবার নিয়ে এসেছে কেবল তপ্ত নিঃশ্বাস। দেশের সব জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রতিবেদন থেকে শুরু করে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ, সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে এক ভয়াবহ জলবায়ু সংকটের দিকে।
প্রশান্ত মহাসাগরের সেই চিরচেনা ‘এল নিনো’ এবারও তার অভিশপ্ত প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক সঞ্চালন পথ বদলে গেছে। ফলে আমাদের এই জনপদে প্রাক-বর্ষার যে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি, তা যেন সুদূর পরাহত। ২০২৪-২৫ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে ২০২৬-এর এপ্রিলের প্রথমভাগও কেটেছে এক দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন তাপপ্রবাহের মধ্য দিয়ে।
কালবৈশাখীর অনুপস্থিতি এবার এক বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। বঙ্গোপসাগরে কোনো শক্তিশালী নিম্নচাপ সৃষ্টি না হওয়ায় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা সেই মেঘের দল পথ হারিয়েছে। আকাশ মেঘলা হলেও বৃষ্টির দেখা নেই, কারণ পশ্চিমী লঘুচাপের সেই চিরচেনা আর্দ্র আর শুষ্ক বাতাসের মেলবন্ধন এবার ঘটেনি। চারদিকের বাতাস এখন এতটাই শুষ্ক যে মেঘ ঘনীভূত হওয়ার আগেই তা মিলিয়ে যাচ্ছে রোদের প্রকোপে।
মাঠের ফসল পুড়ছে, শহর থেকে গ্রাম, প্রতিটি প্রান্তের মানুষ একটু বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে আকাশের দিকে। এই পরিস্থিতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কেবল বইয়ের তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক কঠিন বাস্তবতা।
তবে আশার কথা এটুকুই যে, এপ্রিলের শেষভাগে (২৬-২৭ এপ্রিলের দিকে) একটি নিম্নচাপের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। হয়তো সেই বৃষ্টির ফোঁটা চৈত্র-বৈশাখের এই দীর্ঘ দহনজ্বালা জুড়িয়ে দেবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, প্রকৃতির এই ভারসাম্যহীনতা কি আমরা রোধ করতে পারব?