৬ শিশু মরে প্রমাণ করল রাজধানীর মগবাজারের আদ্–দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। কী সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, সব জায়গায় একই অবস্থা বিরাজ করছে। দেখার কেউ নেই, এমনটাই মনে করছেন দেশবাসী। অন্য দেশে হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী করতেন?
তবে, এ ঘটনার পর দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মগবাজারের আদ্–দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে (পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ড) ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গুরুতর গাফিলতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান। শুক্রবার সকালে তিনি গণমাধ্যমকে এ কথা জানান। ডা. জাহিদ রায়হান বলেছেন, তদন্তে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত ত্রুটিসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়েছে। ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় করা সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শনিবার জমা দেওয়া হবে। এর আগে, এই ঘটনায় ঢাকার রমনা থানায় মামলা হয়। মামলায় অবহেলাজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। নিহত এক নবজাতকের স্বজন বুধবার রাতে বাদী হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
এছাড়া মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে একাধিক নবজাতকের মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং দেশের সব হাসপাতালের মা ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালককে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে একাধিক নবজাতকের মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় দেশব্যাপী গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অভিভাবকদের অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে সদ্য জন্ম নেওয়া একাধিক নবজাতক হঠাৎ একসঙ্গে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অবিরাম কান্না, বমি, শ্বাসকষ্ট এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখা দেয়। একইসঙ্গে কয়েকজন প্রসূতি মাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে যে, এমন সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও পর্যাপ্ত জরুরি চিকিৎসা সাড়া, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হয়নি।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয় যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মীদের উপস্থিতি ও তৎপরতা পর্যাপ্ত ছিল না এবং সংকটাপন্ন নবজাতকদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা বা উপযুক্ত চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তরেও বিলম্ব ঘটে। ফলে একের পর এক নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে, যা শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকেই নয়, সমগ্র জাতিকে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে। ওই ঘটনা দেশের হাসপাতালগুলোতে মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডের নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসা সাড়া ব্যবস্থা, রোগী পর্যবেক্ষণ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার গুরুতর দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের জন্য কার্যকর মনিটরিং, দ্রুত চিকিৎসা সাড়া এবং জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
নোটিশে চারটি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া। ক্ষতিগ্রস্ত নবজাতকদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ও কার্যকর ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি চিকিৎসা সাড়া, রোগী নিরাপত্তা এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা, প্রটোকল ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। প্রতিটি হাসপাতালের নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসা সাড়া ব্যবস্থা, রোগী নিরাপত্তা, সেবার মান এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি ও মূল্যায়নের লক্ষ্যে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা বা তদারকি কমিটি গঠন। নোটিশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।