প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১০:০৩
অর্থনীতি, উন্নয়ন, কর ব্যবস্থা ইত্যাদি তথ্যগত ও তত্ত্বগত বহুবিধ মিশ্রণ। সাধারণ মানুষ এত জটিল হিসাব চিন্তা করে না। সাধারণ মানুষের ভাবনা—সে যা আয় করে, তা দিয়ে তার জীবনযাত্রা চলে কি না।
আমাদের যে পরিমাণ কৃষিপণ্য দরকার—ধান, গম, মসলা, রবিশস্য, সবজি ইত্যাদি কৃষি বিভাগ নির্ধারণ করে দেবে যে, কোন জেলার কতটুকু জমিতে কী ফসল হবে। কৃষি বিভাগ তদারকি করে এই ফসল ফলাবে। বীজ, সার এবং সেচের কোনো ব্যবসায়ী থাকবে না। সরকার নিজ জনবল দিয়ে ভর্তুকি মূল্যে সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেবে। কৃষকশ্রেণি দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবে, খাদ্য আমদানি বন্ধ করে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাবে কৃষক।
ব্যবসায়ীরা কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলবে
নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের অবাধ সরবরাহ এবং বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিটি গ্রামে/ওয়ার্ডে একাধিক সরকারি ডিলার থাকবে, যারা সরকারের কাছ থেকে পণ্যসামগ্রী ন্যায্যমূল্যে সংগ্রহ করে সরকার-প্রদত্ত রেশন কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের নিকট মাসে দুবার বা সপ্তাহে একবার রেশন বিক্রয় করবে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় কমে যাবে।
জীবনযাত্রার ব্যয় কমিয়ে, প্রতিটি মানুষের সব ধরনের আয় থেকে সরকার আয়কর অর্থাৎ ইনকাম ট্যাক্স নেবে। আয়কর হবে প্রতিটি উপার্জনকারী ব্যাক্তির বাধ্যতামূলক প্রদান। কোনো আয়করমুক্ত আয়সীমা রাখার দরকার নেই, বিনিয়োগে রিবেট দরকার নেই, আয়করের কোনো স্ল্যাবের দরকার নাই। করহার হবে সবার জন্য একটা এবং যে যা আয় করবে তা থেকেই আয়কর দিতে হবে। আয়কর মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দেবে, না দিলে শাস্তি হবে চরম এবং নজরদারি হবে জোরদার।
প্রতিটি থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে আয়কর অফিস নিতে হবে, জনবল বাড়াতে হবে। ট্যাক্স অফিস শুধু আয়কর আদায় নয় বরং জনগণের জীবনযাত্রা মনিটরিং ও সম্পদের নজরদারিসহ অন্যান্য সরকারি কাজেও ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
এতে দেশ উন্নত হতে বাধ্য।
লেখক
আয়কর আইনজীবী ও
কোম্পানি অ্যাডভাইজার