ঈদুল আজহাকে ঘিরে বাংলাদেশে প্রতি বছরই বড় আকারের বা ব্যতিক্রমী গরু-মহিষ নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখা যায়। তবে এবার সেই আগ্রহ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও। নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে লালন-পালন করা বিরল অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন বিশ্ব মিডিয়ার আলোচনার বিষয়। সোনালি চুল, গোলাপি আভাযুক্ত মুখমণ্ডল ও অদ্ভুত চেহারার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকে। আর সেই কারণেই মহিষটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
খামারটিতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ শুধু একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বের প্রভাবশালী কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। বার্তা সংস্থা রয়টার্স, ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ ও থাইল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংকক পোস্ট মহিষটিকে নিয়ে আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মহিষটির চেহারা, স্বভাব, পরিচর্যা ও ঈদুল আজহাকে ঘিরে বাংলাদেশিদের আগ্রহের নানা দিক।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে একটি বিরল অ্যালবিনো মহিষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোনালি রঙের লম্বা চুল ও ভিন্নধর্মী চেহারার কারণে মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর চুলের স্টাইলের সঙ্গে মিল থাকায় এমন নামকরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের মহিষটি ঢাকার কাছের নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে লালন-পালন করা হচ্ছিল। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সেখানে ভিড় জমাতেন, ছবি তুলতেন এবং ভিডিও করতেন। খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা বলেন, তার ছোট ভাই মজা করে মহিষটির নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখেন।
রয়টার্স আরও জানায়, অ্যালবিনো মহিষ বাংলাদেশে খুবই বিরল। মহিষটির হালকা রঙের শরীর, গোলাপি আভাযুক্ত নাক ও সোনালি চুল তাকে অন্য গবাদিপশুর চেয়ে আলাদা করেছে। ঈদের আগে এটি ইতোমধ্যে কোরবানির জন্য বিক্রিও হয়ে গেছে। খামার মালিক জানান, মহিষটিকে সুস্থ রাখতে দিনে চারবার গোসল করানো হতো ও চারবার খাবার দেওয়া হতো।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই অ্যালবিনো মহিষটি এখন বাংলাদেশে এক ধরনের তারকাখ্যাতি পেয়েছে। প্রায় দেড় হাজার পাউন্ড ওজনের এই মহিষটির সোনালি চুলের কারণে প্রতিদিন কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমছে খামারে।
প্রতিবেদনে খামার মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধার বরাত দিয়ে বলা হয়, তার ভাই মহিষটির ‘অসাধারণ চুল’ দেখে ট্রাম্পের নামের সঙ্গে মিলিয়ে এ নাম দেন। মে মাসজুড়ে নারায়ণগঞ্জের খামারটিতে অসংখ্য মানুষ ভিড় করেছেন শুধু মহিষটিকে একনজর দেখতে।
দর্শনার্থীদের একজন বলেন, ‘সত্যিই মহিষটির চেহারা ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিল রয়েছে।’ কেউ কেউ শুধু মহিষটি দেখতে এক ঘণ্টার নৌভ্রমণ করেও এসেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দ্য টেলিগ্রাফ আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষটির ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এর সোনালি চুল ও মুখাবয়বের সঙ্গে ট্রাম্পের ‘অদ্ভুত মিল’ খুঁজে পেয়েছেন। জিয়াউদ্দিন মৃধা জানান, প্রায় ১০ মাস আগে রাজশাহীর একটি পশুর হাট থেকে মহিষটি কেনা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মহিষটি খুব শান্ত স্বভাবের ও অ্যালবিনো মহিষ সাধারণত সহজ-সরল প্রকৃতির হয়ে থাকে। খামার মালিক নিশ্চিত করেছেন, মহিষটি ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। এ ছাড়া একই খামারের আরেকটি প্রায় ৭৫০ কেজি ওজনের মহিষের নাম রাখা হয়েছে ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু’, যেটিকে তুলনামূলক বেশি দুরন্ত বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদপত্র ব্যাংকক পোস্ট জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে থাকা ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় আকর্ষণ। দর্শনার্থীরা সেখানে ভিড় করছেন শুধু মহিষটিকে ছুঁয়ে দেখা ও ছবি তোলার জন্য।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা প্রায় ১০ মাস আগে রাজশাহীর একটি পশুর হাট থেকে মহিষটি কিনেছিলেন। তার ছোট ভাই মজা করে নামটি দিয়েছিলেন। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মহিষটির জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।
ব্যাংকক পোস্ট জানায়, মহিষটি প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে এবং শিগগিরই নতুন মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দর্শনার্থীদের অনেকে জানিয়েছেন, ছবিতে যেমন মনে হয়েছিল, সামনাসামনিও মহিষটির চেহারা ট্রাম্পের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়।
খামারের কর্মীরা জানান, মহিষটিকে দিনে চারবার গোসল করানো হয়। খাবার হিসেবে দেওয়া হয় ভুট্টা, খৈল, ভুসি, ধানের তুষ ও ঘাস। রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে এবার ঈদ উপলক্ষে প্রায় ২০০ গরু-মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রায় সবগুলোই আগাম বুকিং হয়ে গেছে।