প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে অপরাধমূলক ভয়ভীতি দেখানো ও মানহানির অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে রোববার (৮ মার্চ) সকালে মামলাটির আবেদন করেন রমনা থানার বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি নিয়ে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে বিপুল ভোটে হেরে যান। নির্বাচনের সময় থেকে তিনি বিভিন্ন মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন। নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরে যাওয়ার পর আরও বেশি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য এবং বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাদী দেখেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মানহানিকর হুবহু বক্তব্যে কয়েকটি অনলাইন নিউজ মিডিয়াতে এসেছে।
বাংলাদেশ ক্রিমিনাল র্যাংকিয়ে নাম্বার ওয়ান গডফাদার ‘মির্জা আব্বাস’—এই বক্তব্যগুলো অত্যন্ত মানহানিকর ও নিন্দনীয় কাজ। এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল করে দিয়ে মির্জা আব্বাসের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামির এসব বক্তব্য ফেসবুকে দেখে বাদী ও মির্জা আব্বাস বিস্মিত হয়েছেন। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এসব বক্তব্য দেখেছেন। তিনি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ও ইচ্ছাকৃতভাবে একের পর এক বাদী ও মির্জা আব্বাসের সুনাম ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের জন্য মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে, যা সব প্রকার শিষ্টাচার সভ্যতার রীতিনীতি বহিঃভূত এবং মানহানিকর বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটাওয়ারী ঢাকা-৮ আসন থেকে মনোনয়ন পান। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর মির্জা আব্বাস চার হাজার ৯৮০ ভোটে জয়ী হন। তিনি পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট। আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট।