জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকার জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের নাম ব্যবহার করে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কখনো ৭১-এর চেতনা, কখনো জুলাই আন্দোলনের নাম ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে তারা কোনোটিই ধারণ করে না।
রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে ১১ দল আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তারা প্রতিটি আন্দোলনের সুবিধাভোগী হলেও কখনোই সেই আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। নব্বই এর গণঅভ্যুত্থানের পরও তারা তিন দলের রূপরেখা বাস্তবায়ন করেনি। আজ তারা জুলাই সনদের কথা বলছে, কিন্তু সেটিকে দলীয় ইশতেহারে রূপ দিয়ে বিকৃত করছে। জুলাই সনদ কোনো দলীয় ইশতেহার হতে পারে না, এটি একটি জাতীয় ঐক্যের দলিল।’
তিনি বলেন, ‘আজকের এই মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদের অবস্থানকে পুনরায় স্পষ্ট করা। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে আমরা ২০২৬ সালে এসে পৌঁছেছি। আর কয়েক মাস পরই এর দুই বছর পূর্তি হবে। কিন্তু এত সময় পার হওয়ার পরও আমরা এখনো ঐক্যবদ্ধ আছি, একই লক্ষ্যে অবিচল আছি। বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে হবে, সংস্কারের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বিএনপির দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে এই পরিবর্তনের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সরকার। বিএনপি সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, এ কথা আজ এখানে উপস্থিত সবার বক্তব্যেই উঠে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের বাংলাদেশের সম্পদ মনে করি। তাদের নিয়ে আমরা কখনোই রাজনীতি করতে চাইনি, ভবিষ্যতেও করব না। তারা নিজেদের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তারা পুনরায় দলীয়করণের পথে নিয়ে যাচ্ছে। অতীতে পুলিশ বাহিনী দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। এখন আবার সেই প্রবণতা ফিরে আসছে। বিচার বিভাগেও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে তারা সংস্কারের উদ্যোগগুলো বাতিল করেছে। এতে স্পষ্ট হয় তারা মুখে সংস্কারের কথা বললেও অন্তরে তা ধারণ করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হচ্ছে। আমরা গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ গণআন্দোলন ছাড়া এই সরকার কোনোভাবেই সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে না। আমরা চাই সংসদেই সব সমস্যার সমাধান হোক। কিন্তু যদি সংসদকে অকার্যকর করে রাখা হয় তাহলে আমাদের রাজপথে নামা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘এবার আমাদের আন্দোলন হবে পরিকল্পিত, সুসংগঠিত এবং পূর্ণ সফলতার লক্ষ্যে। আমরা ব্যর্থ হওয়ার জন্য নয়, সম্পূর্ণ সফল হওয়ার জন্যই রাজপথে নামব।’
শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্বীকার করি অতীতে আমরা আপনাদের পাশে পুরোপুরি দাঁড়াতে পারিনি। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। আজ যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন সবাই হয়তো কথা বলতে পারেননি, কিন্তু আমরা সবার মনের ভাষা বুঝতে পেরেছি। আমরা আবারও ঐক্যবদ্ধ এটাই আমাদের শক্তি।’
তিনি বলেন, ‘আগের আন্দোলনে আপনারা আপনাদের সন্তান হারিয়েছেন, কেউ হাত পা হারিয়েছেন। এবার আপনারা পেছনে থাকবেন। আমরা যারা আজ মঞ্চে আছি আমরা সামনে থাকব। গুলি এলে আগে আমাদের বুকেই আসবে। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন, সহযোগিতা করবেন। ইনশাআল্লাহ আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব, সংস্কার প্রতিষ্ঠা করব। যে কোনো বাধা, যে কোনো শক্তিকে মোকাবিলা করে আমরা বিজয় অর্জন করব।’