ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন মনিরা শারমিন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।
মনিরা শারমিন বলেন, আমার চাকরির বয়স তিন বছর হয়নি এটা ঠিক। কিন্তু আইনে যা উল্লেখ আছে, সেটি আমার মতো একজন ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তার জন্য প্রযোজ্য না বলে মনে করি। আমি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হলে নির্বাচন করা যাবে না-যে কারণে এই আইনটি করা হয়েছিল, তা আমার জন্য প্রযোজ্য না বলে মনে করি। কারণ এটা একটা ব্যাংকের চাকরি।
এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান বলেন, সরকারি চাকরি থেকে তার পদত্যাগের সময় তিন বছর অতিবাহিত না হওয়ার বিধানের কারণে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, এনসিপির এই নেত্রী ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর কৃষি ব্যাংকে যোগদান করে পরে রাজনীতিতে নাম লেখান। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। জামায়াত জোটের হয়ে এনসিপির আরেক নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তবে সেটা নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর দাখিল করায় তা গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এদের মধ্যে দুদিনের বাছাইয়ে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোর্চা থেকে একজনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। কোনো দল বা জোটের নয় এমন তিনজন প্রার্থীর মধ্যে একজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর অতিবাহিত না হওয়ায় বাতিল হয়। এক্ষেত্রে জামায়াত জোটের জন্য ইসির বণ্টন করা ১৩ আসন থেকে একটি কমে ১২টি দাঁড়াচ্ছে। আপিলেও মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র না টিকলে আসনটি সব দল ও জোটের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সংসদে বিএনপির সদস্য বেশি থাকায় এই জোটের দুর্গে আসতে পারে আরেকটি আসন। এতে বিএনপি জোটে আসন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৩৭টি।
তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত আপিল দাখিল করা যাবে। ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল শুনানি হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল। ১২ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।