বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের জাতীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
এতে সারাদেশ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত কয়েক হাজার জুলাই যোদ্ধা অংশ নেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছে। দেশের মুক্তিকামী জনগণ প্রতিজ্ঞা করেছিল আর কখনো স্বৈরতন্ত্র ফিরতে দেওয়া হবে না। এজন্য দেশে সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকেই বিএনপি সংস্কারে বাধা দিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, একটি পর্যায়ে বিএনপি ঐকমত্য কমিশনে এলেও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে অসম্মতি জানিয়েছে। জনগণের গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পরপরই তারা গণভোটকে অস্বীকার করতে শুরু করেছে।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, যে বিএনপির জন্ম গণভোটের মাধ্যমে, সেই বিএনপিই এখন গণভোটকে অস্বীকার করছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করছে।
বিএনপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিএনপি নতুন করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে এবং আওয়ামী লীগের পথেই দেশকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা যদি পুরনো স্বৈরাচারের পথে হাঁটে, তাহলে জনগণ আবারও রুখে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দিয়ে জনগণকে ভুলানোর চেষ্টা করছে। অথচ জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বাস্তবতা তারা অস্বীকার করছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেশের স্বার্থে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সরকার সহযোগিতা নেওয়ার সব দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার জানা নেই, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়েছিল কি না। আমরা জানি না আগামী ৬ মাসে তাদের কী পরিণতি হবে। আমরা কোনো অস্থিতিশীলতা চাই না। আমাদের একটাই দাবি, গণভোটের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সম্মান এবং শহীদ পরিবারকে মর্যাদা দেওয়া।
সমাবেশে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।