স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঢাকাকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না। মাঝেমধ্যে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে তার। শনিবার (৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় ‘দক্ষিণের জানালা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা জানান।
মির্জা ফখরুল জানান, মাঝেমধ্যে তার নিজেরই মনে হয় যে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে থাকবেন। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ঘর থেকে বের হলেই দূষিত বাতাস ও ‘পলিউটেড অক্সিজেনের’ সম্মুখীন হতে হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তার ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণা করে জানান, ১৯৬৩ সালে যখন তিনি ঢাকা কলেজে পড়তেন, তখন বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানো যেত। কিন্তু বর্তমানে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি এতটাই দুর্গন্ধযুক্ত যে তার কাছে যাওয়াও দায়। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে না।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই ঢাকা শহরের সমস্যার সমাধান হবে না। যারা নীতি নির্ধারণ করছেন এবং শহর শাসনের দায়িত্বে আছেন, তারা কতটা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছেন। ঢাকা শহরের উন্নয়নের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চললেও সাধারণ নাগরিকেরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সেটি গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’
পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ ও পানিসংকট নিয়েও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন তৈরি করা হলেও পানিনিষ্কাশন সঠিকভাবে হচ্ছে না। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হাজার মিটার নিচে নেমে যাওয়া ঢাকার জন্য এক ভয়াবহ বিপদ।’
অনুষ্ঠানে সভাপতি ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম, পরিবেশ ও পানিসম্পদ-বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার, নগর–পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান প্রমুখ অংশ নেন।