শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনটি ছিল পরিকল্পিত এবং এর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
রাশেদ খাঁন লেখন, ‘শিবিরের কোচিং সেন্টারে যেসব শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়ে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সেসকল শিক্ষার্থীদের একপ্রকার উসকানি দিয়ে মাঠে নামানো হয়েছিল। পাশাপাশি অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীও বিভ্রান্ত হয়ে মাঠে নেমেছিল। আমি মনে করি, এটা একটা পরিকল্পিত আন্দোলন। বিশেষ করে আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শিবির এই নোংরামি করেছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিল সায়েন্সল্যাবে, কিন্তু এদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢুকিয়ে একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল শিবির।’

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাশেদ লেখেন, ‘তিনি পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গিয়ে কথা বলেছেন এবং তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেছেন। আজকে যে শিবির নোংরা প্ল্যান হাতে নিয়েছিল, তা এখন মোটামুটি পরিষ্কার। আবার ছাত্রলীগও ছাত্রদলকে নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়েছে যে, ছাত্রদল নাকি শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে পেটাচ্ছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের বিক্ষুব্ধ করতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিডিও ছবিও ছড়িয়েছে ছাত্রলীগ।’
বিএনপির এই নেতা লেখেন, ‘সবমিলিয়ে আজকে শিবির-ছাত্রলীগের যৌথ প্রযোজনায় একটি ব্যর্থ আন্দোলন সংগঠিত হলো। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে এই রাজনীতি বুঝতে পেরে ঘরে ফিরে গেছে। আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’
অভিভাবকদের উদ্দেশে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘সন্তানকে পড়ার টেবিলে বসান। প্রশ্ন সহজ হোক আর কঠিন হোক, বই থেকেই হবে। আপনার সন্তানের ব্রেনকে বিএনপি সরকার নষ্ট হতে দিবে না। ১৬ বছরে শিক্ষার্থীদের মেধা ধ্বংসের অপচেষ্টা ছিল। কিন্তু বিএনপির লক্ষ্য মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করা। আর জামায়াত-শিবিরের লক্ষ্য আপনার সন্তানকে বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া।’