প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৩২:৪৫
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। এখন পর্যন্ত তার অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
গত তিন দিন ধরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা একই রকম আছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মায়ের এমন অসুস্থতার সময়েও দেশে ফেরার বিষয়ে ‘একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত নয়’—তারেক রহমানের এমন মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বক্তব্যে প্রশ্ন উঠছে—তিনি কেন দেশে ফিরতে পারছেন না। কার হাতে এই সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ। খবর বিবিসি বাংলার।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসেই সব ব্যাখ্যা রয়েছে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে লিখেছেন—তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আপত্তি নেই।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৫ মাস অতিক্রান্ত। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ বিভিন্ন সময়ে হওয়া সব মামলায় তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান আদালতের প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পেয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকেও নিরাপত্তাজনিত কারণে বুলেটপ্রুফ গাড়ি ও অস্ত্র লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে। ফলে মামলা বা নিরাপত্তা—কোনো দিক থেকেই দৃশ্যমান বাধা নেই। কিন্তু এরপরও তারেক রহমান কেন এমন বার্তা দিলেন।
বিএনপির কিছু সূত্র বলছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের আপত্তি থাকতে পারে, যদিও কোন দেশ এবং কীভাবে আপত্তি জানিয়েছে তা তারা নিশ্চিত করতে পারেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, তারেক রহমানের বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়—দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর পেছনে আরও কিছু নিয়ামক রয়েছে। তিনি বলেন, উইকিলিকস ফাঁস হওয়া নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির বিষয়টি উঠে এসেছিল, আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১/১১–র সময় তারেক রহমানের রাজনৈতিক অঙ্গীকার বা মুচলেকা থাকার কথা বলা হয়ে থাকে। এমনকি তিনি বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়েছেন কি না—সেটিও পরিষ্কার নয়।
এদিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন—নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে পরিস্থিতি যাই হোক, তারেক রহমান দেশে ফিরবেন এবং নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেবেন।