সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির চেয়ারপারসনের পদটি এখন শূন্য রয়েছে। এই পদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো দলের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না এলেও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই এখন চেয়ারম্যান। তবে চলমান কার্যক্রমে এই পদ ব্যবহার করা হচ্ছে না।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান এখন দলটির চেয়ারম্যান। শিগগিরই তিনি এই পদে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পুরো দেশ এখন শোকার্ত। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আজ (শুক্রবার) শেষ হবে। দলীয়ভাবেও সাত দিনের শোক চলছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়ী কমিটির আগামী সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় বলা আছে— ‘যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’ সে হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন তারেক রহমান।
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়। ১৯৮৪ সালের ১০ মে থেকে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া কারাবন্দি হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্বের উপধারা ২ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যানের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন। এই ধারা অনুযায়ী তারেক রহমান ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
গঠনতন্ত্রের এ বিধানের কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের নিযুক্তির জন্য আলাদা কোনো ঘোষণা দেওয়ার দরকার নেই। যদিও দলের বিভিন্ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এখনও তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, দলীয় শূন্যতা পূরণ এবং সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসছে। আগামী ১ থেকে ২ দিনের মধ্যেই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, পুরো দেশ অভিভাবকহীনতায় আছে। তার ছেলে তারেক রহমানও শোকে মুহ্যমান। এ রকম পরিস্থিতিতে দলের পদ-পদবি নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নেই। তবে অবশ্যই তারেক রহমান এখন দলের চেয়ারম্যান।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী থানা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে তিনি দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন।
২০০৭ সালের ১/১১-র রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে যুক্তরাজ্য থেকেই তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনার দায়িত্ব নেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে তিনি গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন।