জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী হলফনামায় দেখানো ৩২ লাখ টাকার সম্পত্তি নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিয়েছে এনসিপি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে দলের যুগ্ম সদস্যসচিব তামীম আহমেদের পাঠানো এক বার্তায় এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।
তিনি জানান, নাহিদ ইসলামের অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন বেতন-ভাতা থেকে মোট আয় ছিল ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯ টাকা। সাত মাস উপদেষ্টা পদে থেকে গড়ে মাসিক ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হিসেবে তিনি এই অর্থ আয় করেন। উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করার পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে মাসিক ১ লাখ টাকা সম্মানিতে কাজ শুরু করেন তিনি।
তামীম আহমেদ আরও জানান, সে হিসেবে গত অর্থবছরে উপদেষ্টা পদে থেকে এবং পরামর্শক পেশার আয় থেকে মোট ১৬ লাখ টাকা আয় করেন। ২০২৪-২৫ আয়বর্ষে তার আয়ের উপর সর্বমোট ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর পরিশোধ করেন। এই সব তথ্য তার আয়কর রিটার্নে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে হলফনাফায় নাহিদ ইসলামের বাৎসরিক আয়ের পরিমাণ ১৬ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
‘হলফনামায় নাহিদ ইসলামের বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখ করা ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা। যা উনার উপদেষ্টা এবং পরামর্শক পদে থেকে আয়, হাতে থাকা নগদ অর্থ, ইতিপূর্বে করা সেভিংস, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং বিয়েতে আত্মীয় স্বজন থেকে প্রাপ্ত আর্থিক এবং স্বর্ণলংকারের উপহারের বর্তমান বাজার মূল্যের সমষ্টি।’
আয়কর রিটার্ন কিংবা নির্বাচনী হলফনামার কোথাও নাহিদ ইসলামের পেশা শিক্ষকতা দেখানো হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এটা স্পষ্টতই এটি অপতথ্য। নির্বাচনী হলফনামার ৪ নম্বর কলামে স্পষ্টত উনার বর্তমান পেশা হিসেবে পরামর্শক এবং পূর্বতন পেশা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পদ উল্লেখ করা আছে। এ ছাড়া তিনি গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পদত্যাগ করার সময় তার সোনালী ব্যাংকের একটিমাত্র একাউন্টে ১০ হাজার ৬৯৮ টাকা জমা ছিল বলে পাবলিক পোস্টে জানিয়েছিলেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সে একই অ্যাকাউন্টে তার বর্তমান জমার পরিমাণ ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা। সোনালী ব্যাংকের এই একটি মাত্র অ্যাকাউন্ট এবং নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বরে সিটি ব্যাংকে খোলা অ্যাকাউন্টটি ছাড়া বর্তমানে নাহিদ ইসলামের আর কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই।