ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩ কোটি ৯০ লাখ ৩১ হাজার ৬৭ টাকা।
নির্বাচনী হলফনামায় তিনি এসব তথ্য উল্লেখ করেন। হলফনামা থেকে আরও জানা যায় বছরে তার আয় ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪ টাকা। তার স্ত্রীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩ কোটি ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬৭ টাকা ও বছরে আয় ২৩ লাখ এক হাজার ৩৬৮ টাকা। এ্যানির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৬০টি।
এ্যানি তার হলফনামায় আরও উল্লেখ করেন, তিনি এসএস কোম্পানী, রি রয়েল প্রোপার্টিজ ও মেসার্স বিইউ চৌধুরী অটো ফ্লাওয়ার মিলসের স্বত্বাধিকারী। এ ছাড়া তিনি রাইট গার্মেন্টস লিমিটেড, এগ্রো এনার্জি (প্রাঃ) লিমিটেড ও টিপ্পানি মার্বেল বিডি লিমিটেডের পরিচালক। তিনি আগেও এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তার স্ত্রী পারভীন আক্তার চৌধুরীও পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি সাবরান এসএস কোম্পানীর স্বত্বাধিকারী ও ইনবিল্ড রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের পরিচালক। এ ছাড়া তিনি সৈয়দ ট্রেজার্স ব্রাদার্স লিমিটেড ও ঢাকা হাইড এন্ড স্কিন লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার।
মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন এ্যানি চৌধুরীর কাছে নগদ ৯৬ হাজার ৭৮১ টাকা ছিল। স্ত্রীর কাছে ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ২০৯ টাকা। এ্যানির ঢাকা ব্যাংকের হিসেবে ৩০ লাখ ৮৫ হাজার ৫১৯ টাকা, এনসিসি ব্যাংকে (ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রি রয়েল প্রোপার্টিজ) ১১ লাখ ৫১ হাজার ১৬১ টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংক (ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এসএস কোম্পানী) হিসেবে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৬৩০ টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংরকে ব্যক্তিগত হিসেবে ২৯ হাজার ৪৭৪ ও অগ্রণী ব্যাংকে ২০ লাখ টাকা রয়েছে।
এ ছাড়া রাইট গার্মেন্টস লিমিটেডে ৯০ হাজার টাকা, টিপ্পানি মার্বেল বিডি লিমিটেডে ২ লাখ টাকা, এগ্রো এনার্জি (প্রাঃ) লিমিটেডে ৫ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। তার নিজের মালিকানাধীন বিজনেস ক্যাপিটেলে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৪১০ টাকা রয়েছে।
তিনি প্রায় ৬১ লাখ ৭৬ হাজা টাকা মূল্যের একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার স্টেশন ওয়াগার জিএক্স গাড়ি ব্যবহার করেন।
বিবাহকালীন উপহার হিসেবে প্রাপ্ত প্রায় ১২০ তোলা স্বর্ণ আছে এবং স্ত্রীর রয়েছে ৩০ তোলা স্বর্ণ। এ ছাড়া ১ লাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য, ২ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। তিনি এক কোটি ৪২ লাখ টাকা আর্থিক লোন প্রদান করেছেন। ১০ লাখ টাকা দিয়ে বোট ক্লাবের ও এক লাখ টাকা দিয়ে নোয়াখালী ক্লাবের মেম্বারশীপ গ্রহণ করেন।
উল্লেখিত সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ২৭ হাজার ৫৭১ টাকা। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার ৫৭১ টাকা।
স্থাবর সম্পত্তিতে উল্লেখ করা হয়, এ্যানির প্রায় ৪০ লাখ টাকার জমি রয়েছে। লক্ষ্মীপুরে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত প্রায় ১২৭ শতাংশ জমি, তার নামে রাজধানীর বনানী মডেল টাউনে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫ কাঠা জমি, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৫ কাঠা জমি রয়েছে। তার লক্ষ্মীপুরে নির্মাণাধীন একটি আবাসিক ভবনের ছয়শ ভাগের এক ভাগের মালিকানা (যার মূল্য- ৯ লাখ ১৬ হাজার ১৮৯ টাকা) রয়েছে।
তেজগাঁও বাণিজ্যিক এলাকায় ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ৩৬০০ স্কয়ার ফিটের একটি গোডাউন রয়েছে। এক লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিয়োগ রয়েছে বাকুশা হকার্স মার্কেট সমবায় সমিতিতে। উল্লেখিত সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯৯ টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ব্যাক্তিগত দুটি হিসাবের ক্রেডিট কার্ডের ২৪ হাজার ৪১২ টাকা, ব্যক্তিগত ঋণ ৩০ লাখ টাকা, জমি ও গোডাউন ভাড়া থেকে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা দায় রয়েছে। স্ত্রীর নামে এক কোটি ৯৮ লাখ ৩৬ হাজার ২০৮ টাকা ব্যবসায়িক ও ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৮ টাকা কার লোন রয়েছে। তার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দুটি হিসাবে দুই লাখ ২৭ হাজার ২৮২ টাকা দায় রয়েছে। এ্যানির ব্যক্তিগত লোন রয়েছে এক কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও জমি বিক্রির অগ্রিম এক কোটি টাকা দায় রয়েছে।
স্থাবর সম্পত্তি থেকে বছরে ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ৮১০ টাকা, ব্যবসা থেকে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫২ টাকা, ব্যাংক আমানত ১৬ হাজার ৫৯২ টাকা, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি থেকে আয় ৩৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৫৪ টাকা।
তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৯০ লাখ ৩১ হাজার ৬৭ টাকা ও বছরে আয় ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪ টাকা। তিনি সর্বশেষ ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫৮ টাকা ও তার স্ত্রী ৩ লাখ ২০ হাজার ৩৪২ টাকা আয়কর দিয়েছেন।
এ্যানির নামে ৬০টি ফৌজদারি মামলার কথা উল্লেখ করা হয় হলফনামায়। এরমধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। কয়েকটি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন। এ ছাড়া উচ্চ আদালতের নির্দেশে কার্যক্রম স্থগিত ও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে তার নামে আরও গায়েবি মামলা থাকতে পারে বলে জানান তিনি।