বিগত সরকারের শাসন আমলে গুম-খুনের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের কান্না আর আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।
বিগত আন্দোলনে নিপীড়নে গুম-খুন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করে আমরা বিএনপি পরিবার ও মায়ের ডাক।
‘বছর যায়, নতুন বছর আসে কিন্তু আমাদের বাবা আর আসে না। ৫ আগস্টের পর একটা বছরের বেশি পার হয়ে গেল কিন্তু আমরা কাউকে ফিরে পেলাম না।’ কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম হওয়া পারভেজের কন্যা ঋদি।
ঋদির প্রশ্ন, বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার যে স্বপ্ন দেখছে, তা কি পূরণ হবে আদৌ?
ঋদি বলছিল, আমার বয়স যখন আড়াই বছর তখন থেকে আম্মুর কোলে চড়ে এখানে আসি। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন বাবার সঙ্গে স্কুলে যাবো কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না।
মাত্র ২ মাস বয়সে সাফার বাবা নিখোঁজ হন। তার আক্ষেপ কখনো বাবাই ডাকতে না পারার। নেই বাবার সঙ্গে কোনো স্মৃতিও।
কাঁদতে কাঁদতে সাফা বলে, একযুগ ধরে বাবার জন্য সবাই অপেক্ষা করছি কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাকে দেখতে পারিনি। অনেক জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোনো খোঁজ পাইনি।
সমবয়সীদের যখন বাবারা হাঁটা শেখায়, তখন নিজের বাবাকে খুঁজে বেড়ায় ৩ বছর বয়সে বাবাকে হারানো মিম।
মিম, সাফা, ঋদির মতো গত ১৭ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং গুমের শিকার হয়ে স্বজন হারিয়েছে অসংখ্য পরিবার। কেউ বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই আবার কেউ বা হারিয়েছেন স্বামীকে। এখন শুধু সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন পরিবারের সদস্যরা। এসময়, ভুক্তভোগীর স্বজনদের কান্না আর আর্তনাদ শুনে কাঁদেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।
দেড় যুগরেরও বেশি সময় লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানো বিএনপির চেয়ারম্যান স্বজন হারানো পরিবারগুলোর সঙ্গে সহমর্মিতা জানান।
গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিন ও রাতের অবসান ঘটেছে বলে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের মানুষ গণতেন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এক দুঃসময় আমরা অতিক্রম করেছি। অনেক সন্তান এখনো অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের বাবা হঠাৎ করে দরজায় এসে কড়া নাড়বে। অনেক মা হয়তো এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন, তার সন্তান হঠাৎ করে বাড়ি ফিরে দেখা দিবে।’
ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য বলেন, গুম প্রতিরোধে এমন আইন করবেন যেনো ভবিষ্যতে এই অপরাধ করার সাহস কারো না হয়।