জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, জনগণের ছোট ছোট অনুদানেই তারা নির্বাচন করতে চান, যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, কালো টাকা ও ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীদের অর্থ নির্ভর নির্বাচনী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এনসিপি কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এক জায়গা থেকে নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। দাতারা চাইলে সরাসরি এনসিপিকে অনুদান দিতে পারবেন, আবার চাইলে নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীকে সহায়তা করতে পারবেন। আমাদের পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই তহবিলে কত টাকা এলো, কোথায় খরচ হলো— সবকিছু আমরা প্রতি বছর অডিটের মাধ্যমে যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করব, যা দেশবাসীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তারা যখন অন্য দলগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা কিংবা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন নিজেদের ক্ষেত্রেও সেই একই মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি। এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে কেউই হাজার কোটি বা শত শত কোটি টাকার ঋণখেলাপি নন, কারও বিদেশি নাগরিকত্ব বা বিদেশে বাড়িঘর নেই। এটাই আমাদের রাজনীতির একটি মৌলিক পার্থক্য।
দলের প্রার্থীদের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, অধিকাংশ প্রার্থী জুলাই অভ্যুত্থানের পর সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া তরুণ পেশাজীবী, যারা চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছেন, অথবা পড়াশোনা শেষ করা সাবেক শিক্ষার্থী। প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করলেই দেখা যাবে— হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউই আগে থেকে কোটিপতি বা আর্থিকভাবে খুব বেশি সচ্ছল নন। ফলে জনগণের সমর্থনই তাদের প্রধান শক্তি।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, কোনো প্রার্থী যদি ব্যবসায়ী বা ঋণখেলাপিদের অর্থে নির্বাচিত হন, তাহলে সংসদে গিয়ে সেই অর্থদাতাদের স্বার্থ রক্ষার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমরা সেই রাজনীতির অংশ হতে চাই না।
বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, এনসিপির যে প্রার্থীকে বা দলকে তারা উপযুক্ত মনে করেন, সেখানে অনুদান দিয়ে এই নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে সহযোগিতা করুন। আপনাদের অর্থ, সহযোগিতা ও সমর্থনে নির্বাচিত হলে আমরা সংসদে আপনাদের কণ্ঠস্বরই তুলে ধরব।