বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর একটি গ্রুপ, জামায়াতে ইসলামীর জুনিয়র টিম সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা বিএনপির বিরুদ্ধে অসভ্য-নোংরা ভাষায় কথাবার্তা বলছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার গুলিস্তানের হল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে করা একটি পোস্টকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জামায়াতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ মেয়েদের সম্পর্কে অসভ্য শব্দ ব্যবহার করেছে। তাদের (জামায়াতের) বাচ্চারাও একযোগে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
কারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের নাম ধরে তিনি সরাসরি না বললেই তার কথাবার্তায় বোঝা যাচ্ছে যে তিনি আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এনসিপির কথাই বলছেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, এই ছেলেপেলেরা যা শুরু করেছে, তারা লাফ দিয়ে হঠাৎ করে নেতা হয়ে গেছে। এখন অল্প পানির মাছ বেশি পানিতে পড়লে যেরকম করে, এদের অবস্থা তেমন হয়েছে। দিশেহারা হয়ে গেছে।
এনসিপি নেতারা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্বন্ধে, এমনকি তার (মির্জা আব্বাস) বিরুদ্ধেও কথা বলা শুরু করেছে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, তাদের বাপ-চাচা যদি রাজনীতি করতো, আমার সম্পর্কে বলতো, আমি আপত্তি করতাম না। কিন্তু এরা ছোট মুখে বড় কথা বলছে। নির্বাচন চলে গেলে এই সমস্ত কথাবার্তা বলার সুযোগও পাবেন না আপনারা।
তিনি আরও বলেন, চুলার মুখ থেকে ছাই বের হয়, কখনো সোনা বের হয় না। আর সোনার খনি থেকে কখনোই ছাই বের হয় না। আমরা ভেবেছিলাম, জাতি আশা করেছিল, আপনারা দেশের জন্য ভালো কিছু করবেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে আমরা কখনো বলি নাই, মন্ত্রী হয়ে যাবো। মুক্তিযুদ্ধের পরে বহুদিন অপেক্ষা করেছি। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৭-এ কমিশনার নির্বাচন, ১৯৯১-এ এমপি, তারপর আজকের এই অবস্থানে আছি।
মির্জা আব্বাস বলেন, আপনারা দুই দিনেই আজকের এই অবস্থানে চলে যেতে চান। আপনারা ভাবেন, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে কথা বললেই খবরে থাকা যায়। মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে কথা বললেই প্রচারণায় থাকা যায়। কিন্তু প্রচারণায় থাকার জন্য বহু রাস্তা আছে। দান করেন, ভালো কথা বলেন, মানুষের মুখে মুখে থাকবেন। কিন্তু এইভাবে গালিগালাজ করে, অসভ্য ভাষায় কথা বলে নিজের পরিচয় জাহির কইরেন না যে আপনি কোত্থেকে এসেছেন।