মালয়েশিয়ার সেরেমবান শহরের তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়ে যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৭ জনকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি, ইন্দোনেশীয়, মিয়ানমার, ভারতীয় ও মালয়েশীয় নাগরিক রয়েছেন। সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, রোববার দুপুর ২টা থেকে অভিবাসন বিভাগের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগের কর্মকর্তারা এ অভিযান পরিচালনা করেন। এতে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ইন্দোনেশীয় দূতাবাস সহযোগিতা করে।
তিনি বলেন, ইন্দোনেশীয় নাগরিকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে দূতাবাসের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর অভিবাসন বিভাগ তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালায়। এর ভিত্তিতেই সেরেমবানের তিনটি স্থানে অভিযান চালানো হয়।
আটক ৫৭ পুরুষ ও নারীর মধ্যে মালয়েশিয়ার ৭, ইন্দোনেশিয়ার ২৯, বাংলাদেশের ১৭, মিয়ানমারের ৩ ও ভারতের ১ জন রয়েছেন। তাদের বয়স ১৯ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। অভিযানে বাংলাদেশ, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন স্থাপনার চাবি ও কনডম জব্দ করা হয়েছে বলে জানান জাকারিয়া।
তিনি বলেন, ‘তদন্তে জানা গেছে, বিদেশি নারীদের বিভিন্ন গেস্টহাউস ও স্বল্পমূল্যের হোটেলে রাখা হতো। এসব কক্ষ দৈনিক অথবা এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত সময়ের জন্য ভাড়া নেওয়া হতো। এসব স্থাপনা মালয়েশীয় ও বিদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের কেউ কেউ ক্যাপ্টেন বা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।’
জাকারিয়া আরও বলেন, ওই নারীরা স্থানীয় ও বিদেশি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি সেশনে ৫০ রিঙ্গিতের বিনিময়ে যৌনসেবা দিতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জানান, প্রায় এক বছর ধরে সংগঠিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ থেকে বছরে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার রিঙ্গিত আয় হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আটক সাত মালয়েশীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৬(১)(ডি) ধারায় অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে একই আইনের ৬(১)(সি) ও ১৫(১)(সি) ধারা এবং ইমিগ্রেশন রেগুলেশনস ১৯৬৩-এর ৩৯(বি) ধারায় অভিযোগের তদন্ত চলছে।
আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য অভিবাসন বিভাগের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।