পৃথিবীর যে প্রান্তেই যত সুরক্ষিত স্থানেই মানুষ থাকুক না কেন, মৃত্যু তাকে পাকরাও করবেই। যারাই জন্মগ্রহণ করবে, মৃত্যুকে তাদের বরণ করতেই হবে। মানুষের মৃত্যুর পর প্রথমে তাকে গোসল করানো হয়, তারপর জানাজা পড়াতে হয়। অতঃপর দাফন করা হয়। দাফন প্রক্রিয়া বা জানাজা শুধুমাত্র সামাজিক রীতি নয়, বরং এটি সুন্নাহ ও শরিয়তের অংশ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন, কবর খনন করেছেন এবং মাটি দিয়েছেন। তাই মুসলিমদের জন্য এ বিষয়টি জানা ও সঠিকভাবে পালন করা জরুরি।
জানাজার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দাফন শেষ করার কথা বলা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার সময় বা মাটি দেওয়ার সময় কোরআনের একটি আয়াত পড়ার কথা হাদিসে এসেছে। হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল (সা.)-এর মেয়ে উম্মে কুলসুমকে কবরে রাখা হয় তখন রাসূল (সা.) বললেন, مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى
উচ্চারণ: মিনহা খালাকনাকুম ওয়া ফিহা নুঈদুকুম ওয়ামিনহা নুখরিজুকুম তা রাতান উখরা। অর্থ: আমি মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, আর মাটিতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনব। পুনরায় তোমাদেরকে মাটি থেকে বের করব। (সুরা: ত্বহা ৫৫নং আয়াত)
কোনো ব্যক্তিকে মাটি দেয়ার সময় দোয়াটি পড়ার নিয়ম হলো, প্রথমবার মাটি দেয়ার সময় ‘মিনহা খালাকনাকুম’ বলতে হয়। দ্বিতীয়বার ‘ওয়া ফিহা নুঈদুকুম’ বলতে হয়। আর তৃতীয়বার বলতে হয় ‘ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা’। (সুনানে বায়হাকি ৬৯৭৩)
কবরে মরদেহ রাখার দোয়া
জানাজা পর মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার সময় দোয়া পড়তে বলেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। দোয়াটি হলো:
بِسْمِ الله وَ عَلَى سُنَّةِ رَسُوْلِ الله بِسْمِ اللهِ وَ عِلَى مِلَّةِ رَسُوْلِ الله
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহ ওয়া আলা সুন্নাতি রসুলিল্লাহ। অন্য বর্ণনায় এসেছে- বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রসুলিল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহ তাআলার নামে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ত্বরিকা বা দলের ওপর রাখা হচ্ছে। (তিরমিজি ও আবু দাউদ)