বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে ‘অঘোষিত সিসা বার’!
রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-১ এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক অভিযানকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। একদিকে ১৫ লিটার বিদেশি মদ ও মরণঘাতী সিসার আসর থেকে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী ফরহাদ বিল্লা রুবেল, অন্যদিকে ডিএনসি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আগে থেকেই খবর ছিল, নিকুঞ্জ-১ এলাকার একটি ফ্ল্যাটে মানুষের চোখের আড়ালে চলছে অন্ধকার সাম্রাজ্য। গত ৭ এপ্রিল রাতে সেখানে হানা দেয় ডিএনসির বিশেষ টিম। অভিযানে ওই ফ্ল্যাট থেকে জব্দ করা হয় ১৫ লিটার বিদেশি মদ, ২ কেজি মরণঘাতী শিশা, ৫টি রাজকীয় হুক্কা, ৪৫টি বিদেশি মদের খালি বোতল।
ডিএনসি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ফ্ল্যাটটি কোনো সাধারণ বাসা ছিল না; এটি ছিল একটি ‘অঘোষিত সিসা বার’। যেখানে ধনাঢ্য ও উচ্চবিত্তরা নিয়মিত মাদক সেবনের জন্য যাতায়াত করতেন। উপস্থিত সাক্ষীদের সামনেই সমস্ত আলামত জব্দ করে ফ্ল্যাটের মালিক ফরহাদ বিল্লা রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আসামি ফরহাদ বিল্লা রুবেল জামিনে বের হয়ে অভিযানকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। রুবেলের দাবি, তার বাসা ও অফিসে অভিযান চালিয়ে ডিএনসি কর্মকর্তারা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মামলা থেকে পুরোপুরি রেহাই দেওয়ার নাম করে কর্মকর্তারা তার কাছ থেকে নগদ ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও তিনি লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ তোলেন।
তবে ডিএনসির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো এই অভিযোগকে স্রেফ ‘বানোয়াট গল্প’ ও ‘ভিকটিম কার্ড’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, রুবেল একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। মাদক মামলায় ফেঁসে গিয়ে নিজের পিঠ বাঁচাতে এবং সৎ কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দিতেই সে সস্তা ও ভিত্তিহীন গল্প ফেঁদেছে।
এদিকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন রুবেল। তার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।