সুপার এইটের শুরুটা জিম্বাবুয়ের জন্য বেশ কঠিন ছিল। প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাওয়ার হিটারদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বড় লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৫৪ রান। শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা না মিললেও সেই ম্যাচ থেকেই ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে নিচ্ছেন অলরাউন্ডার রায়ান বার্ল। তার বিশ্বাস, বোলিং আক্রমণের বৈচিত্র্যই ভারত পরীক্ষায় দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের কালো মাটির উইকেটে সুপার এইটের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের প্রতিপক্ষ ভারত। গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের আগে দলে ফিরেছেন রিচার্ড এনগারাভা। ব্লেসিং মুজারাবানি ও এনগারাভার মতো দীর্ঘদেহী পেসারদের উপস্থিতিতে গতি আক্রমণে উচ্চতার সুবিধা পাচ্ছে দলটি।
স্পিন বিভাগেও রয়েছে একাধিক বিকল্প। লেগস্পিনার গ্রায়েম ক্রেমার, অলরাউন্ডার বার্ল নিজে, অফস্পিন ও মিস্ট্রি স্পিনে দক্ষ অধিনায়ক সিকান্দার রাজা এবং বাঁহাতি ফিঙ্গার স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজা; সব মিলিয়ে আক্রমণে বৈচিত্র্য স্পষ্ট। এই বিকল্প শক্তির ওপরই আস্থা রাখছেন বার্ল।
রয়ান বার্ল বলেন, ‘আমাদের দলে অপশন অনেক। বাঁহাতি-ডানহাতি পেসার আছে, লেগ স্পিনার আছে, অফ স্পিনার আছে, বাঁহাতি স্পিন বোলার আছে। শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে ম্যাচ-আপ আর কম্বিনেশনের ওপর।’
ভারতীয় দলে একাধিক বাঁহাতি ব্যাটার থাকায়, বিশেষ করে ওপেনিংয়ে অভিষেক শর্মা ও ইশান কিষান থাকলে নতুন বলে রাজাকে ব্যবহার করার কৌশল দেখা যেতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে আঙুলে চোট পেলেও রাজার ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। অনুশীলনে স্বচ্ছন্দেই ব্যাটিং-বোলিং করেছেন তিনি।
তবে জিম্বাবুয়ের আক্রমণের মূল ভরসা মুজারাবানি। ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার এই পেসার তার উচ্চ রিলিজ পয়েন্ট ও বাড়তি বাউন্স দিয়ে ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখছেন। চলতি আসরে ইতিমধ্যে নিয়েছেন ১১ উইকেট। এবারের টুর্নামেন্টে তার চেয়ে বেশি উইকেট আছে কেবল শ্যাডলি ফন স্কালভিকের।
মুজারাবানিকে নিয়ে বার্লের প্রত্যাশাও স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘চোটের কারণে কয়েক বাইরে ছিল। শরীর নিয়ে সংশয় ছিলই। কিন্তু যেভাবে ফিরেছে, তা অসাধারণ। ওর উচ্চতা, সামান্য অ্যাঙ্গেল থেকে বল ছাড়ার কারণে ডানহাতিদের ভেতরে আর বাঁহাতিদের বাইরে বল জ্যাগ করে। যা ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। দলে ওকে পেয়ে আমরা নিশ্চিন্ত আছি।’
সাম্প্রতিক বড় দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলাই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে মনে করেন বার্ল। ২০২৫ সালে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে না থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে মাত্র এক টেস্ট কম খেলেছে জিম্বাবুয়ে। টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও জিতেছে দুই ম্যাচ।
সবশেষে দলীয় পরিকল্পনা নিয়ে বার্ল বলেন, ‘ভালো ব্লু প্রিন্ট আর প্রক্রিয়ায় সবাই আস্থা রাখছে। তবে মাঠে কার্যকর করাটাই শেষ কথা। সবকিছুর সমন্বয়েই এখন ফল পাচ্ছি।’
আজ সন্ধ্যা ৭ টা বেজে ৩০ মিনিটে চেননাইয়ে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ভারতের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে।