ইউরোপিয়ান রাতের উত্তাপে যখন বড় দলগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছিল, তখন লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে ছিল অন্য এক আত্মবিশ্বাসী গল্প। হিসাব-নিকাশের চাপ না নিয়ে নিজেদের ছন্দেই খেলেছে আর্সেনাল, আর সেই ছন্দেই নিশ্চিত করেছে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে জায়গা।
মঙ্গলবার রাতে বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগে শুরু থেকেই দাপট দেখায় আর্সেনাল। প্রথম লেগে হার এড়ানো দলটি এদিন কোনো ঝুঁকি নেয়নি, বরং শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে রাখে। একের পর এক আক্রমণে লেভারকুসেনের রক্ষণ ব্যস্ত থাকলেও গোলরক্ষকের কয়েকটি দুর্দান্ত সেভে প্রথম দিকে গোল পায়নি স্বাগতিকরা।
তবে চাপ ধরে রাখার ফল পেতে দেরি হয়নি। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন এবরেশি এজে। বক্সের ভেতরে সুযোগ পেয়ে নিখুঁত শটে জাল কাঁপান তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটিই তার প্রথম গোল, আর সেটিই আর্সেনালকে ম্যাচে স্বস্তি এনে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে লেভারকুসেন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও খুব বেশি পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি আর্সেনাল রক্ষণকে। বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে স্বাগতিকরা। ৬৩ মিনিটে রাইস প্রায় একক নৈপুণ্যে দারুণ একটি গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তার এই গোলেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
এরপর লেভারকুসেন মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত বল জালে জড়াতে পারেনি। ফলে ফিরতি লেগে ২-০ ব্যবধানে হার এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে বিদায় নিতে হয় জার্মান ক্লাবটিকে।
এই জয়ের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর আর্সেনাল উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্পোর্টিং সিপি, যারা নরওয়েজিয়ান ক্লাব বোডো/গ্লিমটকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল মুখোমুখি হবে দুই দল, আর সেখানেই অপেক্ষা করছে আরেকটি বড় পরীক্ষার।