দীর্ঘ ট্রফি খরা কাটানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্সেনাল, কিন্তু আরেকটি ফাইনালই বনে গেল হতাশার গল্প। ওয়েম্বলির ঝলমলে রাতে সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, হঠাৎই চার মিনিটের ঝড়ে সব ভেঙে পড়ে গানারদের।
লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এফএ কাপের ফাইনালে শুরুটা ছিল আর্সেনালেরই। মিকেল আর্টেটার দল একের পর এক আক্রমণে চাপে রাখে ম্যানচেস্টার সিটিকে। কাই হাভার্টজের শট, বুকায়ো সাকার পরপর দুটি প্রচেষ্টা; সবই ঠেকিয়ে দেন সিটির গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ড। তখন মনে হয়েছিল, গোলটা বুঝি সময়ের অপেক্ষা।
অন্যদিকে শুরুতে চাপে থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে পেপ গার্দিওলার ম্যান সিটি। প্রথমার্ধে খুব একটা হুমকি তৈরি করতে না পারলেও বিরতির পর বদলে যায় দৃশ্যপাই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬০ মিনিটে। সহজ একটি বল সামলাতে গিয়ে ভুল করেন আর্সেনাল গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগা। তার হাত ফসকে যাওয়া বল পেয়ে হেডে জালে জড়ান তরুণ নিকো ও’রাইলি। এই গোলেই ভেঙে পড়ে আর্সেনালের আত্মবিশ্বাস।
এরপর মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে আবার আঘাত হানে সিটি। ম্যাথিউস নুনেসের ক্রস থেকে উড়ে এসে আরেকটি হেডে জোড়া গোল পূর্ণ করেন ও’রাইলি। চার মিনিটের সেই ঝড়েই মূলত ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্সেনাল। কিন্তু ভাগ্যও যেন তাদের সঙ্গ ছাড়ে। রিকার্ডো কালাফিওরির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে, আর গ্যাব্রিয়েল জেসুস-এর হেড থেমে যায় ক্রসবারে। এত কাছাকাছি গিয়েও গোলের দেখা পায়নি গানাররা।
সবমিলিয়ে বল দখল (৬৩ শতাংশ) আর শটের আধিপত্যে এগিয়েই ছিল সিটি। লক্ষ্যে থাকা দুটি শট থেকেই তারা তুলে নেয় দুই গোল, যা এনে দেয় মৌসুমের প্রথম শিরোপা। সাম্প্রতিক হতাশা, বিশেষ করে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়; সবকিছুর জবাব যেন এই ম্যাচেই দিল গার্দিওলার দল।