ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের বড় ছেলে, ধনকুবের ব্যবসায়ী ইয়াসির আব্বাস দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ফাতাহর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহসহ গাজা, কায়রো ও বৈরুতে একযোগে অনুষ্ঠিত ফাতাহর অষ্টম সাধারণ সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে তিনি এই পদে আসেন। প্রায় এক দশক পর অনুষ্ঠিত দলটির এই ঐতিহাসিক সম্মেলনকে ঘিরে ফিলিস্তিনি রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উত্তরাধিকার এবং সংস্কারের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
৯০ বছর বয়সী প্রবীণ নেতা মাহমুদ আব্বাসকে আবারও সর্বসম্মতিক্রমে দলটির প্রধান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করা হয়েছে। একই সাথে ২২ সদস্যের সেন্ট্রাল কমিটির ১৮টি নির্বাচিত পদের জন্য ৫৯ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬৪ বছর বয়সী ইয়াসির আব্বাস এক হাজার ৩০১টি ভোট পেয়ে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন। ইয়াসির আব্বাস এর আগে কখনোই ফাতাহ বা ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক পদে ছিলেন না। তবে গত পাঁচ বছর ধরে তিনি তার বাবার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছিলেন, যা মূলত তাকে ফিলিস্তিনের মূলধারার রাজনীতিতে পরিচিত করে তোলে।
রাজনীতিতে এই প্রথম সরাসরি যুক্ত হয়েই ইয়াসির আব্বাস তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি জানান, তার মূল অগ্রাধিকার হবে, সবার আগে গাজা। ইসরায়েলের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর গাজা উপত্যকাকে আবারও ফিলিস্তিনি মূলধারার আইনি কাঠামোর মধ্যে ফিরিয়ে আনাই হবে ফাতাহর প্রধান লক্ষ্য। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি বন্দি ও শহীদদের পরিবার এবং শরণার্থী শিবিরগুলোর উন্নয়নে তিনি বিশেষভাবে কাজ করবেন। পাশাপাশি একক রাষ্ট্র, একক আইন ও একক বৈধ অস্ত্রের নীতি মেনে যারা ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থাকে (পিএলও) একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকার করবে, তাদের সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
তবে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের একাংশের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় বা সংসদীয় নির্বাচন না হওয়া এবং ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক স্থবিরতার মধ্যে প্রেসিডেন্টের ছেলের এমন উত্থান একটি রাজনৈতিক রাজতন্ত্র বা পারিবারিক উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেই ইঙ্গিত করে। যদিও ইয়াসির আব্বাসের সমর্থকেরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং প্রায় আড়াই হাজার প্রতিনিধির সরাসরি গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমেই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মাহমুদ আব্বাসের পরবর্তী যুগে ফাতাহ এবং ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে এই সেন্ট্রাল কমিটি সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। এবারের নির্বাচনে ইয়াসির আব্বাসের পাশাপাশি ফিলিস্তিন গোয়েন্দা প্রধান মাজেদ ফারাজ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সেন্ট্রাল কমিটিতে প্রবেশ করেছেন। আর ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি থাকা জনপ্রিয় ফিলিস্তিনি নেতা মারওয়ান বারঘুতি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। দীর্ঘ দুই দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না থাকায় ফাতাহর ভেতরের এই রদবদল সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: আলজাজিরা