বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছে মরুভূমির এক দল, শুনতে যেন গল্পের মতো, কিন্তু সেটাই বাস্তব। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে আফ্রিকার অপেক্ষাকৃত অচেনা ফুটবল দল মৌরিতানিয়া।
মৌরিতানিয়া জাতীয় ফুটবল দল; মরুভূমি, যাযাবর জীবন আর সীমিত সুযোগ-সুবিধার দেশটির এই দলটি এখনো বিশ্ব ফুটবলে বড় শক্তি নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের পারফরম্যান্সে দেখা যাচ্ছে উন্নতির ছাপ। ১৯৬৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু করা দলটি ১৯৭০ সালে ফিফার সদস্যপদ পেলেও এখনো বিশ্বকাপের মূলপর্বে উঠতে পারেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়েও নিজেদের গ্রুপে পঞ্চম হয়ে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তারা ১১৫তম স্থানে।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অভিজ্ঞতা আর তারকায় ভরা দল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান দ্বিতীয়। দুই দলের শক্তির পার্থক্য তাই চোখে পড়ার মতো। আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে তিনবার অংশ নেওয়া মৌরিতানিয়া বড় কোনো সাফল্য না পেলেও নিজেদের অবস্থান ধীরে ধীরে শক্ত করার চেষ্টা করছে। ‘লায়নস অব চিনগুয়েত্তি’ নামে পরিচিত দলটির এই নাম এসেছে ঐতিহাসিক শহর চিনগুয়েত্তি থেকে।
বর্তমানে দলটির কোচ আরতিজ লোপেজ গারাই। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দলটিকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ শুরু করেছেন। তার স্কোয়াডে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলা কয়েকজন ফুটবলার থাকলেও শীর্ষ পর্যায়ের তারকা নেই। পরিচিত মুখ হিসেবে আছেন আবুবকরি কইতা এবং জেইদি গাসামা। তাদের মধ্যে গাসামাই বর্তমানে দলের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়।
ভৌগোলিকভাবে মৌরিতানিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা সাহারা মরুভূমিতে আচ্ছাদিত। কঠিন এই পরিবেশেও ফুটবলে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কোচ আরতিজের কথাতেই ফুটে ওঠে সেই লড়াইয়ের মানসিকতা, ‘আমরা ছোট একটি দেশ, তবে উন্নতির চেষ্টা করছি। আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে খেলা আমাদের জন্য সম্মানের।’
বাংলাদেশ সময় ২৮ মার্চ ভোরে মুখোমুখি হবে দুই দল। শক্তির বিচারে এটি অনেকটাই ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ লড়াই।