প্রতি মৌসুমেই ধারণা করা হয় আর্সেনাল সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতবে। কিন্তু মৌসুম শেষে কেবলই আফসোস দেখা যায় আর্সেনাল শিবিরে। ঠিক ওই নিয়মেই এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের গল্পটা লেখা ছিল। দারুণ ফর্মে থাকা আর্সেনাল যেখানে স্বাভাবিকভাবেই ফেবারিট হিসেবে মাঠে নেমেছিল, সেখানে ম্যাচ শেষে হাসি ফুটেছে সাউদাম্পটনের মুখে। ২-১ গোলের চমকপ্রদ জয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটে নিয়েছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্সেনাল ছিল নিজেদের চেনা ছন্দে। বল দখল, আক্রমণ—সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল তারা। তবে গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোনোভাবেই। এই সুযোগটাই কাজে লাগায় সাউদাম্পটন। প্রথমার্ধের ৩৩ মিনিটে রস স্টুয়ার্টের গোলে এগিয়ে যায় দলটি, আর হঠাৎ করেই চাপে পড়ে যায় আর্সেনাল।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলের ছোঁয়া এনে দেয় নতুন গতি। মাঠে নেমেই ভিক্টর ইয়োকেরেস যেন বদলে দেন ম্যাচের রং। ৫৩ মিনিটে কাই হাভার্টজের পাস থেকে গোল করে সমতায় ফেরান তিনি। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার ফিরে পাচ্ছে আর্সেনাল।
কিন্তু নাটকটা তখনো বাকি ছিল। শেষ দিকে এসে আবারও ধাক্কা খায় আর্সেনাল। বদলি হিসেবে নামা শেয়া চার্লস ৮৫ মিনিটে গোল করে সাউদাম্পটনকে এগিয়ে দেন। এই গোলটাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। সময় ফুরিয়ে যায়, কিন্তু আর ফিরে আসা হয় না আর্সেনালের।
পুরো ম্যাচে বল দখল আর শটের দিক দিয়ে এগিয়ে থেকেও আক্রমণকে ফলপ্রসূ করতে পারেনি আর্সেনাল। অন্যদিকে, কম সুযোগ পেয়েও নিখুঁতভাবে সেগুলো কাজে লাগিয়ে জয় তুলে নেয় সাউদাম্পটন; যা তাদের লড়াইয়ের মানসিকতারই প্রমাণ।
এই জয়ের ফলে এবারের এফএ কাপ সেমিফাইনাল আরও জমে উঠেছে। ইতোমধ্যেই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসি। সিটির হয়ে হ্যাটট্রিক করে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন আর্লিং হালান্ড, আর চেলসি পেয়েছে বড় ব্যবধানে জয়।