চার শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মৌসুম শুরু করেছিল আর্সেনাল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্নে ফাটল ধরেছে। ঘরোয়া দুই প্রতিযোগিতা থেকে বিদায়ের পর এখন ইউরোপের মঞ্চেও পথটা সহজ থাকছে না। তবুও সব চাপের মাঝেই লিসবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ এক জয় তুলে নিয়েছে মিকেল আর্টেটার দল। যে জয়টা যেমন স্বস্তির, তেমনি সতর্কবার্তাও।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে স্পোর্টিং সিপির মাঠে খুব একটা ছন্দে ছিল না গানাররা। পুরো ম্যাচজুড়ে ছিল সমানতালে লড়াই, যেখানে স্বাগতিকরা আক্রমণে কিছুটা এগিয়েই ছিল। তবুও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল।
লিসবনের হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পোর্টিং। মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই মাক্সিমিলিয়ান আরাউহোর জোরালো শট আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে; যা ম্যাচের প্রথম বড় সতর্কবার্তা ছিল। কিছুক্ষণ পর আবারও দারুণ সেভ করে দলকে বাঁচান রায়া।
অন্যদিকে বলের দখলে এগিয়ে থেকেও খুব একটা ধারালো হতে পারেনি আর্সেনাল। প্রথমার্ধে প্রায় ৭০ শতাংশ পজেশন থাকা সত্ত্বেও স্বাগতিকদের তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা। মার্টিন ওডেগার্ডের একটি শটই ছিল প্রথমার্ধে তাদের একমাত্র অনটার্গেট প্রচেষ্টা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। বরং ৬৩ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পোর্টিং। দূরপাল্লার শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয় গোলটি; যা আর্সেনালের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে আসে।
ম্যাচের শেষদিকে চাপ আরও বাড়ায় স্বাগতিকরা। ৮৭ মিনিটে লুইস সুয়ারেজ প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন, কিন্তু আবারও দেয়াল হয়ে দাঁড়ান রায়া। তার অসাধারণ প্রতিক্রিয়াতেই বেঁচে যায় আর্সেনাল।
যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের দিকেই যাচ্ছে, তখনই আসে নাটকীয় মোড়। ৭০ মিনিটে বদলি নামা কাই হাভার্টজ যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গোল করে নায়ক বনে যান। গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির বাড়ানো ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান এই জার্মান মিডফিল্ডার।
এই একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে আর্সেনাল। তবে পারফরম্যান্সের দিক থেকে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। আগামী বুধবার এমিরেটসে ফিরতি লেগে নিজেদের আসল চেহারা দেখাতে না পারলে এই লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।