বিশ্বকাপের টিকিটের লড়াই যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রতিটি ম্যাচ হয়ে উঠছে হিসাব-নিকাশের খেলা। ঠিক এমন এক সময়ে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, যেখানে জয়-পরাজয়ের বাইরে বড় বিষয় হয়ে উঠছে র্যাঙ্কিংয়ের সমীকরণ।
ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে থাকা কিউইদের বিপক্ষে এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, বরং নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ। ম্যাচ জিতলে সিরিজ জেতা; এটা তো আছেই, তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ রেটিং পয়েন্টের লড়াই।
সর্বশেষ সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়ে দারুণ উত্থান ঘটিয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে উঠে এসেছে ৯ নম্বরে। এখন তাদের লক্ষ্য একটাই, উপরের দলগুলোর কাছাকাছি যাওয়া।
বর্তমানে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৭৯। এই সিরিজে যদি ২-১ ব্যবধানে জয় পায়, তাহলে পয়েন্ট দাঁড়াবে ৮৩। আর যদি হোয়াইটওয়াশ করে ৩-০ ব্যবধানে জেতে, তাহলে পয়েন্ট হবে ৮৫। যা তাদেরকে ৮ নম্বরে থাকা ইংল্যান্ডের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে। যদিও এই সিরিজ জিতলেও সরাসরি ৮ নম্বরে ওঠার সুযোগ আপাতত নেই।
অন্যদিকে হারলেও পুরোটা অন্ধকার নয়। ২-১ ব্যবধানে হারলে একটি রেটিং পয়েন্ট বাড়বে বাংলাদেশের। তবে ৩-০ ব্যবধানে হারলে এক পয়েন্ট কমে দাঁড়াবে ৭৮-এ। তবুও র্যাঙ্কিংয়ে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না, ৯ নম্বর অবস্থানই ধরে রাখবে তারা।
এই সিরিজে চাপটা আসলে বেশি নিউজিল্যান্ডের ওপর। র্যাঙ্কিংয়ের ওপরের দিকে থাকায় নিচের দলের বিপক্ষে জিতে খুব বেশি লাভ নেই তাদের। বরং হারের ঝুঁকিই বেশি। ৩-০ ব্যবধানে জিতলে কেবল এক পয়েন্ট বাড়বে, কিন্তু ২-১ ব্যবধানে জিতলেও কমে যেতে পারে পয়েন্ট। আর সিরিজ হারলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
সবকিছুর শেষ হিসাব হবে আগামী বছরের ৩১ মার্চ। এই সময়ের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী নির্ধারণ হবে কারা সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল তো থাকছেই, তাদের সঙ্গে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮ দল নিশ্চিত করবে জায়গা।
আরেক স্বাগতিক নামিবিয়ার ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। পূর্ণ সদস্য না হওয়ায় নামিবিয়া ক্রিকেট দলকে যেতে হবে বাছাই পর্বের পথেই।
আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। এখন দেখার, বাংলাদেশ কি সুযোগটা কাজে লাগাতে পারবে?