শনিবারের দিবাগত রাতটা যেন একাই নিজের করে নিলেন লিওনেল মেসি। ৭৫ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে জোড়া গোল করে ইন্টার মিয়ামিকে ৩-২ গোলের দারুণ এক জয় এনে দিলেন তিনি। কলোরাডো র্যাপিডসের বিপক্ষে এই রোমাঞ্চকর জয়ে নতুন কোচ গিয়ের্মো হোইয়োসও শুরুটা পেলেন স্বপ্নের মতো।
মাত্র চার মাস আগেই ক্লাবকে প্রথম এমএলএস কাপ জেতানো হাভিয়ের মাচেরানো ‘ব্যক্তিগত কারণে’ দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর হোইয়োসের হাতে উঠে আসে দলের হাল। আর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই তিনি পেলেন জয়ের স্বাদ, তাও এমন নাটকীয়ভাবে।
এই ম্যাচ শুধু জয়ের জন্য নয়, দর্শক উপস্থিতির জন্যও ইতিহাস হয়ে থাকবে। মেসিকে দেখার উন্মাদনায় ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হয় ডেনভারের বড় এনএফএল স্টেডিয়ামে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ৭৫ হাজার ৮২৪ জন দর্শক; যা এমএলএস ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য খুব একটা ঝড়ো ছিল না ইন্টার মিয়ামির। কলোরাডো নিজেদের অর্ধ থেকে বল বের করতে গিয়ে ভুল করলে সুযোগ পেয়ে যায় মিয়ামি। জশ আতেনসিও বক্সে ইয়ানিক ব্রাইটকে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় দলটি।
দীর্ঘ ভিএআর চেকের পর পাওয়া সেই পেনাল্টিতে কোনো ভুল করেননি মেসি। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল পাঠান জালের মাঝ বরাবর। এরপর বিরতির আগেই মেসির ফ্লিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে মাতেও সিলভেত্তির ক্রসে হেরমান বেরতেরামে হেডে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন বদলে যায় দৃশ্যপট। ঘুরে দাঁড়ায় কলোরাডো র্যাপিডস। রাফায়েল নাভারো নিজের অর্ধ থেকে বল টেনে এনে দারুণ এক গোল করেন। চার মিনিটের ব্যবধানে লুকাস হেরিংটনের নিখুঁত পাসে দারেন ইয়াপি সমতায় ফেরান ম্যাচ।
মনে হচ্ছিল ম্যাচটা হয়তো হাতছাড়া হয়ে যাবে মিয়ামির। কিন্তু শেষ কথা বলার জন্য তখনও বাকি ছিলেন মেসি। ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের থ্রু পাসে বক্সে ঢুকে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শটে জালের কোণে বল জড়ান তিনি।
এই গোলেই নিশ্চিত হয় ২-৩ ব্যবধানে ইন্টার মিয়ামির জয়। আর এই জয়ের মাধ্যমে ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে তারা।