ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে বছরে মাত্র একটি টেস্ট খেলতে চান, এমন ইচ্ছার কথা আগেই জানিয়েছিলেন আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার রশিদ খান। চোট এড়িয়ে নিজেকে টিকিয়ে রাখার এই ভাবনায় সমর্থনও দিয়েছেন রিচার্ড পাইবাস। এই মন্তব্যের পর থেকেই কয়েকদিন ধরে রশিদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে ক্রিকেট অঙ্গনে। বর্তমানে তিনি আইপিএলে গুজরাট টাইটানসের হয়ে খেলছেন এবং ব্যস্ত সময় পার করছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে।
এরই মধ্যে সামনে এসেছে নতুন এক তথ্য, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বের প্রস্তাব নাকি ফিরিয়ে দিয়েছেন রশিদ। নিজের দেশ আফগানিস্তানের হয়েই থাকতে চান তিনি, এটিই তার স্পষ্ট অবস্থান।
নিজের আত্মজীবনী ‘রশিদ খান: ফ্রম স্ট্রিটস টু স্টারডম’-এ জাতীয়তা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তারকা ক্রিকেটার। আইপিএল ২০২৩ চলাকালীন এক ঘটনার কথা তুলে ধরেন তিনি, যেখানে গুজরাট টাইটানসের এক কর্মকর্তা তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের এক সিনিয়র ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দেখা করান।
বইয়ে রশিদ লিখেছেন, ‘আমি তার সঙ্গে দেখা করি এবং তিনি আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি আমাকে ভারতে থাকার জন্য অনুরোধ করেন এবং ভারতীয় কাগজপত্র পেতে সাহায্য করতে ইচ্ছুক ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন আমি ভারতেই থাকি এবং এখানেই খেলি। আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কী উত্তর দেব তা বুঝতে পারছিলাম না। আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই এবং বলি, আমি আমার দেশ আফগানিস্তানের হয়ে খেলছি তাতেই খুশি।’
শুধু ভারত নয়, অস্ট্রেলিয়া থেকেও নাগরিকত্বের প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রশিদ। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, যদি আমি আমার দেশের হয়ে না খেলি, তবে আমি অন্য কোনো দেশের হয়েও খেলতে চাই।’
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলার সময়কার একটি স্মৃতিও টেনে এনেছেন তিনি। ২০১৮ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্সের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের ভালোবাসায় ভেসে যান রশিদ। অনেকেই তখন তাকে ভারতীয় নাগরিকত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে সুখবর। সম্প্রতি স্ত্রীসহ তিনি পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছেন। সন্তানের নাম রাখা হয়েছে আজলান। সামাজিক মাধ্যমে এই সুখবর জানিয়ে রশিদ লিখেছেন, ‘হ্যালো ওয়ার্ল্ড, আমার নাম আজলান খান। আলহামদুলিল্লাহ। পৃথিবীতে স্বাগতম, আমার ছোট্ট রাজকুমার।’ একইসঙ্গে সবার কাছে পরিবারের জন্য দোয়া চেয়েছেন তিনি।